ঢাকাবাসীর মশার সাথে ‘যুদ্ধ’, নগর সংস্থার কাজ কী
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:০৫ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার
প্রতীকী ছবি।
রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা রোগের আশঙ্কায় নগরবাসীর উদ্বেগও বাড়ছে। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে শিশুদের দিনের বেলায়ও মশারির নিচে রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে এবং পরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশার বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—মশা দমনে নগর সংস্থাগুলো আসলে কী করছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিই ঢাকায় মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অন্যদিকে নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আধুনিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব: রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত দুই সিটি করপোরেশনের—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই দুই সংস্থা নিয়মিতভাবে ফগিং, লার্ভিসাইড ছিটানো এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানায়।
নগর সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা দল গঠন করে ড্রেন, খাল, পরিত্যক্ত জায়গা ও জলাবদ্ধ এলাকায় লার্ভা ধ্বংসের কাজ চলছে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেখানে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ফগিং ও লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম: সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে বিভিন্ন এলাকায় ফগিং মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানিতে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে যাতে মশার লার্ভা ধ্বংস হয়।
বিশেষ করে জলাবদ্ধ এলাকা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জমি এবং ড্রেনের পাশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দল পাঠিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হচ্ছে।
নাগরিকদের অভিযোগ: তবে অনেক এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফগিং কার্যক্রম নিয়মিত হয় না এবং অনেক সময় তা কার্যকরও নয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বাড়ে বলে জানান নগরবাসী।
মিরপুরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “মশার কারণে সন্ধ্যার পর বারান্দায় বসা যায় না। মাঝে মাঝে ফগিং হয়, কিন্তু তাতে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।”
ধানমন্ডির বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, “ডেঙ্গুর ভয় সবসময় থাকে। মশা দমনে আরও কার্যকর উদ্যোগ দরকার।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ওষুধ ছিটালেই মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। ড্রেন ও জলাবদ্ধতা দূর করা, খাল–নালা পরিষ্কার রাখা এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি অপসারণ করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে তা মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।
সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন: নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে মশা কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হবে না।
রাজধানীতে মশা দমনে দুই সিটি করপোরেশন নানা কর্মসূচি চালালেও বাস্তবে নগরবাসীর ভোগান্তি কমেনি। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই ও সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া মশার বিরুদ্ধে এই ‘যুদ্ধ’ জেতা কঠিন।
