প্রথমবারের মতো ‘সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুঁড়ল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:১৫ এএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী ‘সেজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইসরায়েলের সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। খবর প্রেস টিভির।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রোববার (১৫ মার্চ) জানায়, ‘ইয়া জাহরা’ কোড নামে তারা এক বিশাল প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে কেবল সেজ্জিল নয়, বরং অত্যাধুনিক দ্বৈত ওয়ারহেড বিশিষ্ট খোররামশাহর, খায়বার, কদর ও এমাদ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় বহর ব্যবহার করা হয়েছে।
আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ‘সেজ্জিল’ উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কঠিন জ্বালানি চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেল আবিব ও হার্জলিয়াসহ ইসরায়েলের অন্তত ১৪১টি স্থানে একযোগে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাণভয়ে হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ড সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো। তারা সুনির্দিষ্টভাবে সেসব লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হেনেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত হেনে আসছে। ইরান কেবল ইসরায়েলি ভূখণ্ডই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত বিদেশি আগ্রাসন বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযান চলতেই থাকবে।
