ঢাকা, সোমবার ১৬, মার্চ ২০২৬ ১৭:২৪:৪০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

এই ঈদে আড়ং জমজমাট, সব শাখায় উপচে পড়া ভিড়

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:০১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বড় বুটিক হাউজ আড়ং–এর বিভিন্ন শাখায় এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে আড়ংয়ের শোরুমগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট বেচাকেনা। বিশেষ করে রোজার শেষ সপ্তাহে এসে বেড়েছে ক্রেতাদের চাপ। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ঈদের পোশাক ও উপহার সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন এই জনপ্রিয় বুটিক হাউজে।

রাজধানীর ধানমন্ডি, উত্তরা, বনানী ও গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকার আড়ং শোরুমে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবেশপথ থেকেই ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি। ভেতরে ঢুকতেই বিভিন্ন ফ্লোরে ক্রেতাদের ভিড়ে চলাচলই যেন কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ পছন্দের শাড়ি খুঁজছেন, কেউ কিনছেন পাঞ্জাবি বা থ্রি-পিস। আবার অনেকেই বাচ্চাদের পোশাক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ধানমন্ডির একটি শোরুমে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রেজাউল করিম বলেন, “প্রতি ঈদেই আমরা আড়ং থেকে কেনাকাটা করার চেষ্টা করি। এখানকার পোশাকের ডিজাইন ও মান ভালো। তাই ভিড় থাকলেও পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে এখানে আসতেই হয়।”

একই শোরুমে থ্রি-পিস কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানিয়া ইসলাম বলেন, “ঈদের সময় আড়ংয়ের নতুন কালেকশনগুলো বেশ আকর্ষণীয় হয়। দাম একটু বেশি হলেও ডিজাইন ও কাপড়ের মানের জন্য অনেকেই এখান থেকে কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।”

শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের পোশাকের কাউন্টারগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড়। থ্রি-পিস, কুর্তি, গাউন, শাড়ি ও ফিউশন পোশাক কিনতে নারীদের আগ্রহ বেশি। থ্রি-পিসের দাম তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে জামদানি, সিল্ক ও নানা ধরনের শাড়ির দাম পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে বিশ হাজার টাকারও বেশি।

পুরুষদের পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার কাউন্টারেও রয়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে। শিশুদের পোশাকের বিভাগেও অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিক্রেতারা জানান, রোজার প্রথম দিকে বিক্রি কিছুটা ধীরগতির থাকলেও শেষ সপ্তাহে এসে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। ধানমন্ডির এক বিক্রয়কর্মী জানান, “ঈদের আগে এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সকাল থেকেই ক্রেতারা আসছেন। অনেক সময় রাত পর্যন্ত শোরুমে ভিড় থাকে।”

আড়ংয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে এবার নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক বাজারে আনা হয়েছে। দেশীয় কারুশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে এসব পোশাক, যা ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে ক্রেতাদের চাপ আরও বাড়বে। আর ক্রেতারাও বলছেন, ঈদের আনন্দের বড় অংশই নতুন পোশাক কেনার মধ্যে। তাই ভিড় আর ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয়জনদের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতেই ছুটছেন তারা দেশের জনপ্রিয় এই বুটিক হাউজে।