আগামী নির্বাচন যথাসময়েই হবে : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৮:৫৭ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৮:৫১ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার
যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে সকল শংকা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে যথাসময়েই আগামীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা যখন নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা দেবে, তখনই নির্বাচন হবে। বাংলাদেশে এই নির্বাচন অবশ্যই হবে-এটাই আমি বিশ্বাস করি।’
সাস্প্রতিক সৌদি আরব সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার বিকেলে গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
দেশে আগামী নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আশংকা থাকা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা সংশয়ের সৃষ্টি করছে কারণ তাদের আসল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে আর যেন গণতন্ত্র না থাকে এবং দেশে গণতন্ত্র না থাকলেই তাদের জন্য নানারকম সুযোগ সৃষ্টি হয়।’
শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতিতে স্বাধীনতা সবার আছে, জোট গঠনের অধিকারও আছে। রাজনৈতিক জোট গঠনকে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানায়। আমাদের দেশে সবক্ষেত্রে স্বাধীনতা আছে। তিনি বলেন, উন্নত সমৃদ্ধশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। মুক্তিযদ্ধের চেতানায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য চাওয়া হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানাই। তবে একটু লক্ষ রাখা দরকার, কারা কারা এক হলো। কোন চরিত্রের লোক তারা। এমনকি মেয়েদের প্রতি কার কী মন্তব্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের এটা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তায় নেই। এখানে স্বাধীনতাবিরোধী আছে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী আছে। সব মিলিয়েই কিন্তু এটা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগে ছিল। তারা এখন আওয়ামী লীগের বিরোধী হয়েছে।
প্রধামন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোন ভূমিকা নাই। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন তারা স্বাধীনভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে যথাসময়ে নির্বাচন হোক এবং সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেটা আমরা বিশ্বাস করি।’
সাংবাদিক কলামিস্ট মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির জন্য মইনুল হোসেনের সমালোচনা করতে গিয়ে তাকে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘দালাল’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মাসুদা ভাট্টি মানহানির মামলা করার পর তিনি হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেক্ষেত্রে আমি বলবো, আমাদের নারী সাংবাদিকরা, আপনারাই বা কী করছেন? একটা মামলা হয়েছে, আরও তো মামলা হতে পারে। আপনারা প্রতিবাদও করতে পারেন। আপনারা প্রতিবাদ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে। আপনারা মামলা করেন, আমরা যা করার করব।`
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেনের হাত দিয়ে ৭২ এর সংবিধান সৃষ্টি হয়েছে। এখন আবার তিনিই তার কিছু দিক আপত্তিকর করে তুলেন কেন!
প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে বলেন, ষড়যন্ত্রটাতো বাংলাদেশে চিরাচরিত একটা বিষয়, প্রতিনিয়তই ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এটা চলবে এবং থাকবে আর এরমধ্য দিয়েই তো বাংলাদেশকে আমরা আর্থসামাজিকভাবে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছি। ষড়যন্ত্র তো কম হয়নি। কিন্তু সবকিছু মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারছি, তার কারণ একটাই। জনগণই শক্তি আমাদের।
তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি, আমার ওপর জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস আছে বলে আমি মনে করি। কাজেই এদেশে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সেটাই আমি চাই। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমরা সে নির্বাচন করতে সক্ষম হব।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁরা যখন নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা দেবে, সে অনুযায়ী তখনই নির্বাচন হবে। বাংলাদেশে এই নির্বাচন অবশ্যই হবে-এটাই আমি বিশ্বাস করি। যেকোন ষড়যন্ত্র হোক তা মোকাবেলা করবার মত শক্তি আওয়ামী লীগ রাখে আর আমার সরকারও রাখে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন।
