আনন্দ-ভোগান্তি মিলিয়ে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:২২ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ঈদ মানেই নাড়ির টান, প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। সেই চিরচেনা টানে এবারও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন লাখো মানুষ। ঢাকা যেন ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে, আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ভরে উঠছে প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভালোবাসায়।
সড়ক, রেল ও নৌপথ—সবখানেই এখন ঘরমুখো মানুষের ঢল। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট—যেদিকেই চোখ যায়, কেবলই মানুষের ভিড় আর ব্যস্ততা। হাতে ব্যাগ, কাঁধে ঝোলা, কোলে শিশু—এই চিরচেনা দৃশ্যই যেন ঈদযাত্রার প্রতিচ্ছবি। তবে আনন্দের পাশাপাশি ভোগান্তিও কম নয়। টিকিট সংকট, যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা—সব মিলিয়ে যাত্রাপথে এক ধরনের চাপা উদ্বেগও কাজ করছে।
বিশেষ করে ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুহূর্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। অন্যদিকে যারা টিকিট পেয়েছেন, তারা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন, যদিও ট্রেনের বিলম্ব তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সড়কপথে কিছু কিছু মহাসড়কে দেখা যাচ্ছে ধীরগতি ও যানজটের চিত্র। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার কাজ চলায় গাড়ির গতি কমে এসেছে। ফলে কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। তবে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি মহাসড়কে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে যমুনা সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর মিলেছে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের যানজট নেই, ফলে অনেকটাই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। একইভাবে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও টোল প্লাজায় চাপ থাকলেও যান চলাচল সচল রয়েছে।
নৌপথেও ফিরেছে ঈদের চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রী ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা। পদ্মা সেতু চালুর পর অনেকটা নিস্তব্ধ হয়ে পড়া এই টার্মিনাল আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঈদযাত্রাকে ঘিরে।
সরকার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। অতিরিক্ত বাস ও ট্রেন সার্ভিস চালু, মহাসড়কে নজরদারি বাড়ানো, টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন—সবই যাত্রীদের স্বস্তি দিতে নেওয়া পদক্ষেপ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে সক্রিয় রয়েছে, যেন কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
তারপরও সব কষ্টকে যেন তুচ্ছ করে দিচ্ছে ঘরে ফেরার আনন্দ। অনেকেই বলছেন, বছরের এই একটি সময় পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্যই তাদের এত অপেক্ষা। কষ্ট, ভোগান্তি—সবকিছুই যেন ম্লান হয়ে যায় যখন সামনে থাকে প্রিয়জনের মুখ দেখার আনন্দ।
শিশুদের উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ার মতো। নতুন পোশাক, গ্রামের বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা—সব মিলিয়ে তাদের ঈদ আনন্দ যেন অন্যরকম।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদযাত্রা আনন্দ ও ভোগান্তির এক মিশ্র বাস্তবতা। তবুও শেষ পর্যন্ত জয় হয় মানুষের ভালোবাসার—নাড়ির টানই যেন সব বাধা পেরিয়ে মানুষকে পৌঁছে দেয় তার আপন ঠিকানায়।
