ধর্ষণ রোধে সমন্বিত সরকারি অ্যাকশন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:২৮ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলায় সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা মিলে বিশেষ ড্রাইভের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সচিবালয় ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিনুল গনি বলেন, মন্ত্রিসভা সুয়োমুটো একটা ডিসিশন নিয়েছে যে, ধর্ষণ মামলা যেগুলো আছে বা এর আগে হয়েছে: এগুলোর জন্য একটা স্পেশাল ড্রাইভ নেয়া সব মিনিস্ট্রি মিলে। যতদূর যাওয়া দরকার যাবে কিন্তু এগুলো সমাজ থেকে বন্ধ করার জন্য এবং এসব জিনিসগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত একশন নেয়ার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যেকোনো মামলার বিষয়ে অনেকগুলো এজেন্সি জড়িত। এদের মধ্যে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে ঈদের সময় এ বিষয়টা নিয়ে কাজ করবেন। কোন প্রসঙ্গে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের কতগুলো অগ্রাধিকার আছে। তারমধ্যে এটা পড়েছে। উনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বৈঠকে এটা নিয়ে আলোচনা করার।
মন্ত্রিপরিষদ সভায় পাঁচটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের বাজেট যেটা হয়েছে সম্পূরক বাজেটে যে পরিবর্তন হয়েছে তা মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন করেছে, সেটি সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন নাসিমুল গনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তায় কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে প্যাকেজ তৈরি করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির মধ্যেও এ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হাতে থাকা স্থানীয় তহবিল থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। বিশেষভাবে সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের বন্যার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
নাসিমুল গনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো অর্থবছরে অনুমোদিত ব্যয় অপর্যাপ্ত হলে বা নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যয় হলে সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেয়ায় নির্ধারিত সময়ে তা উপস্থাপন সম্ভব হয়নি। নাসিমুল গনি বলেন, এ অবস্থায় সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে, যা এখন আইনে রূপ দিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে পরিণত করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতি অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপন করার কথা থাকলেও সংসদ না থাকায় সেটিও সম্ভব হয়নি। একই কারণে ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা এখন আইনে পরিণত করা হচ্ছে।
