চিকিৎসার অভাবে ৪৯ লাখ শিশুর মৃত্যু, জাতিসংঘের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪৬ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার
প্রতীকী ছবি।
সারা বিশ্বে শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪৯ লাখ শিশু মারা গেছে। এদের বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
এই তথ্য উঠে এসেছে ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, স্বল্প ব্যয়ে নেওয়া কিছু কার্যকর উদ্যোগ—যেমন টিকাদান, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ—বাস্তবায়ন করা গেলে এই মৃত্যুহার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু অর্ধেকেরও বেশি কমানো সম্ভব হয়েছিল। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে এই অগ্রগতির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪৯ লাখ, যা তখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন রেকর্ড। ২০২৩ সালে তা কমে ৪৮ লাখে নেমে আসে। কিন্তু ২০২৪ সালে আবার তা বেড়ে ৪৯ লাখে পৌঁছায়। যদিও সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ভিন্ন বছরে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় সরাসরি তুলনা সবসময় নির্ভুল নাও হতে পারে।
জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈশ্বিকভাবে শিশুমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা—এই চারটি বড় কারণ অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে গেলে ভবিষ্যতে এই মৃত্যুহার কমানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি-এর মতো বড় দাতা দেশগুলো আন্তর্জাতিক সহায়তা বাজেট কমাতে শুরু করেছে, যা স্বাস্থ্যখাতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চিকিৎসা ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গেটস ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন সহায়তা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কমে গেছে। সংস্থাটি আগেই সতর্ক করেছিল, এই অর্থায়ন হ্রাস শিশুমৃত্যু কমানোর অগ্রগতিকে উল্টো পথে ঠেলে দিতে পারে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগে কোনো শিশুর মৃত্যু হওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমানে শিশুদের বেঁচে থাকার হার কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বৈশ্বিক বাজেট আরও কমানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনেক দেশে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের অভাব রয়েছে, যার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো না হয় এবং স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ জোরদার না করা হয়, তাহলে বৈশ্বিক শিশুমৃত্যুর এই উদ্বেগজনক প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স
