ঢাকা, বুধবার ১৮, মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৮:০৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ঈদ কেনাকাটায় জমজমাট ‘দেশী দশ’, ভিড় ক্রেতাদের

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৮ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। আর সেই আমেজের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স-এর দশম তলায় অবস্থিত ‘দেশী দশ’। দেশীয় ফ্যাশনের এই অনন্য প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা, খুঁজছেন নিজের পছন্দের পোশাক—ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে।

২০০৯ সালে ১০টি দেশীয় ফ্যাশন হাউজের সম্মিলিত উদ্যোগে যাত্রা শুরু করা ‘দেশী দশ’ আজ শুধু একটি বিক্রয়কেন্দ্র নয়, বরং দেশীয় সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের এক উজ্জ্বল প্রতীক। দেশজ তাঁত, নকশা ও কারুশিল্পকে সময়োপযোগী করে তুলে ধরার লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল এই পথচলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে দেশীয় ফ্যাশন শিল্পের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে দেখা যাচ্ছে উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকছে পুরো ফ্লোর। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবার নিয়ে আসা ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন নানা রকম পোশাক—থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কুর্তি—সবই দেশীয় কাপড় আর কারুকাজে তৈরি।

‘দেশী দশ’-এর বিশেষত্ব হলো—এক ছাদের নিচে পাওয়া যাচ্ছে দেশের স্বনামধন্য ১০টি ফ্যাশন হাউজের সংগ্রহ। এর মধ্যে রয়েছে নিপুণ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জনস্, রঙ বাংলাদেশ, বাংলার মেলা, সাদাকালো, বিবিআনা, দেশাল, নগরদোলা ও সৃষ্টি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডিজাইন, রং ও বৈচিত্র্য ক্রেতাদের দিচ্ছে পছন্দের বিস্তৃত সুযোগ।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশীয় পোশাকের প্রতি আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদের সময় অনেকে এখন বিদেশি ব্র্যান্ডের বদলে দেশীয় কাপড়েই আস্থা রাখছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন—দেশীয় কাপড়ে স্বাচ্ছন্দ্য, গুণগত মান এবং সংস্কৃতির ছোঁয়া—সবই একসঙ্গে পাওয়া যায়।

সালমা জামান নামে একজন ক্রেতা জানালেন, “ঈদ মানেই নতুন পোশাক। আর দেশীয় ডিজাইনের মধ্যে একটা আলাদা গর্ব কাজ করে। এখানে একসঙ্গে এতগুলো ব্র্যান্ড পাওয়া যায়, তাই বারবার আসি।”

বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের মতে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বিক্রি ততই বাড়ছে। নতুন নতুন ডিজাইন আর কালেকশন ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে বেশি। বিশেষ করে হাতের কাজ, ব্লক, বাটিক ও এমব্রয়ডারির পোশাকগুলোর চাহিদা এবার বেশি।

বর্তমানে ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটে ‘দেশী দশ’-এর বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তাঁতি ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্য এখানে স্থান পায়, যা সরাসরি তাদের জীবিকা উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদকে ঘিরে ‘দেশী দশ’ এখন কেবল কেনাকাটার জায়গা নয়—এটি হয়ে উঠেছে দেশীয় ঐতিহ্য ও ফ্যাশনের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। যেখানে প্রতিটি পোশাকেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের মাটি, মানুষ আর সংস্কৃতির গল্প।