ঈদের আগে স্বস্তি: পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান–আফগানিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:১১ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
পবিত্র রমজান মাসের শেষ সময়ে এসে প্রতিবেশী আফগানিস্তান-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক অভিযান পাঁচ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আফগান তালেবান সরকারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে আগামী সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক-এর আহ্বানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোর অনুরোধেই এই সাময়িক বিরতি।” তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানান, সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে কোনো হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা সন্ত্রাসী তৎপরতা ঘটলে আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করা হবে।
অন্যদিকে আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন, তারাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখছে।
এরই মধ্যে বুধবার কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিহতদের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার ওই কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তালেবান সরকারের দাবি, হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়েছেন।
তবে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ওই পুনর্বাসনকেন্দ্রকে লক্ষ্য করেনি। ইসলামাবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো। পাকিস্তানের অভিযোগ, কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে এবং কাবুল প্রশাসন তাদের আশ্রয় দিচ্ছে—যদিও এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে তালেবান সরকার।
উল্লেখ্য, কাবুলের দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘ওমিদ’ মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে চালানো বিমান হামলাটি তিন সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকা ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক গত বছর থেকে অবনতির দিকে যায়। চীনের মধ্যস্থতায় কিছুটা উত্তেজনা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও তীব্র হয়। এবার পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে, যেখানে আগে মূলত সীমান্তবর্তী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকেই টার্গেট করা হতো।
এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে পারে বলে আশা করা হলেও, সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ফিরে আসবে কিনা—তা এখনো অনিশ্চিত।
