ঈদযাত্রায় বাস-ট্রেন-লঞ্চে ঘরেফেরা মানুষের ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:২৪ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ঈদযাত্রায় বাস-ট্রেন-লঞ্চে ঘরেফেরা মানুষের ঢল
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। রেল, সড়ক ও নৌপথে বিভিন্ন টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েছে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার বাসগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। তবে অনেক যাত্রীর অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যদিও পরিবহন মালিকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে ঘুরে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হওয়ায় সময় নষ্ট হচ্ছে, যা পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।
মহাসড়কগুলোতেও যাত্রীচাপ ও গণপরিবহনের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে করেই গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।
চন্দ্রা মোড় এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পথে পথে যাত্রী তোলার কারণে এই যানজট বাড়ছে বলে জানা গেছে। তবে যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি।
অন্যদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভোর থেকেই যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়েছে। ঈদযাত্রার ট্রেনগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরিতে চললেও সকাল পর্যন্ত সাতটি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে।
গতকাল সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার প্রভাবে কিছু যাত্রীকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসন সংকটে অনেক যাত্রীকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতেও দেখা গেছে।
নৌপথেও একই চিত্র। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভোররাত থেকেই লঞ্চে ওঠার জন্য যাত্রীদের ভিড় জমে। গতকালের লঞ্চ দুর্ঘটনার পরও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি দেখা গেছে।
লঞ্চে উঠতে পন্টুনে হুড়োহুড়ি, ভিড় আর প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। ভাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর আনন্দই যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। নৌযানগুলো ধারণক্ষমতা পূর্ণ হলেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
