ঢাকা, শুক্রবার ২০, মার্চ ২০২৬ ১৭:২৬:১৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

স্বাদের ঐতিহ্যে চার দশক: কে-শফি বেকারির গল্প

জোসেফ সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৯ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পুরান ঢাকার অলিগলি হোক কিংবা শহরের ব্যস্ত সড়ক—কিছু কিছু স্বাদ সময়কে ছাপিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেয়। তেমনই এক নাম কে-শফি বেকারি। ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করা এই বেকারি আজও একইভাবে ধরে রেখেছে তার স্বকীয়তা, আস্থা আর স্বাদের ঐতিহ্য।

শুরুটা ছিল ছোট পরিসরে। হাতে গোনা কয়েকটি আইটেম নিয়ে পথচলা শুরু করলেও ধীরে ধীরে মানুষের ভালোবাসায় বড় হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আধুনিকতা এসেছে, বদলেছে সাজসজ্জা—কিন্তু স্বাদের ক্ষেত্রে কোনো আপস করেনি কে-শফি বেকারি। সেই পুরনো রেসিপি আর যত্নই যেন আজও তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

এখানে ঢুকলেই ভেসে আসে তাজা বেক করা কেক, বিস্কুট আর পেস্ট্রির ঘ্রাণ। শোকেসে সাজানো থাকে নানান রকমের বেকারি আইটেম—কেক, পাউরুটি, বান, কুকিজ, ডোনাট, প্যাটিস থেকে শুরু করে নানা স্বাদের পেস্ট্রি। প্রতিটি আইটেমেই রয়েছে আলাদা স্বাদ, যা দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের মন জয় করে আসছে।

পুরোনো ক্রেতারা বলছেন, “ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে এখানে আসতাম, এখন নিজের সন্তানকে নিয়ে আসি।” এই কথাতেই যেন ফুটে ওঠে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি প্রজন্মান্তরের আস্থা। এক ধরনের নস্টালজিয়া কাজ করে এখানে—যেখানে একটি কেক শুধু কেক নয়, বরং স্মৃতির অংশ।

শুধু স্বাদ নয়, মান নিয়ন্ত্রণেও প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই সচেতন। ভালো উপকরণ ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন—এসব কারণে এখনো ক্রেতাদের কাছে সমান জনপ্রিয় কে-শফি বেকারি। উৎসবের মৌসুমে, বিশেষ করে ঈদ বা পারিবারিক আয়োজনের সময় এখানে ক্রেতাদের ভিড় আরও বেড়ে যায়।

দেশের প্রাচীন বেকারিগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে কে-শফি বেকারি শুধু ব্যবসা নয়, বরং একটি ঐতিহ্য বহন করছে। যেখানে প্রতিটি পাউরুটি, প্রতিটি কেক যেন বলে দেয় দীর্ঘ পথচলার গল্প।

চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্বাদের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা—এটাই কে-শফি বেকারির সবচেয়ে বড় সাফল্য। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি যেমন একটি জনপ্রিয় গন্তব্য, তেমনি পুরোনোদের কাছে এক টুকরো স্মৃতির নাম।