ঢাকা, শুক্রবার ২০, মার্চ ২০২৬ ১৮:০১:১৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রাজধানীতে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি, ভোগান্তিতে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪৮ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন রাজধানীতে হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে আসে অস্বস্তি ও ভোগান্তি। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর গড়ানোর আগেই ঢাকার আকাশে কালো মেঘ জমে ওঠে, এরপর শুরু হয় দমকা বাতাস, বজ্রপাত আর ঝড়ো বৃষ্টি।

বেলা ১১টার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় বৃষ্টিপাত। এর সঙ্গে ছিল ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি, বিকট বজ্রধ্বনি এবং দমকা হাওয়া। হঠাৎ এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে রাস্তাঘাটে চলাচলকারী মানুষ যেমন বিপাকে পড়েন, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও।

বিশেষ করে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বের হওয়া মানুষজন পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়। অনেকে ছাতা বা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই বের হওয়ায় বৃষ্টিতে ভিজে দুর্ভোগে পড়েন। ফুটপাতের দোকানিরা তড়িঘড়ি করে পণ্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় কথা হয় এক ফুটপাত ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি বলেন, “সকাল থেকেই ভালো বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব এলোমেলো হয়ে গেল। কিছু মালামাল ভিজেও গেছে।”

অন্যদিকে, ঈদের কেনাকাটা শেষ করতে বের হওয়া ক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই জানান, শেষ দিনের জন্য কেনাকাটা রেখে দিয়েছিলেন, কিন্তু এই আকস্মিক বৃষ্টি তাদের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টি কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়; গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা।

শুক্রবার দুপুরে দেওয়া এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই অস্থির আবহাওয়া ঈদের দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দেশের আট বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি এবং কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ অবস্থায় ঈদের নামাজ, যাতায়াত ও বিনোদন পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থাকা এবং ঝড়ো হাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে না বের হওয়াই নিরাপদ।

ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তকে ঘিরে যখন রাজধানীজুড়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই এমন বৈরী আবহাওয়া নগরজীবনে এনে দিয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি। তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও মানুষ আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকুক—আর ঈদের দিনটি কাটুক নির্বিঘ্নে।