চাঁদরাতে কেনাকাটা: ভিড়ে মুখর নগর জীবন
অনু সরকার, জোসেফ সরকার, রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০৬ এএম, ২১ মার্চ ২০২৬ শনিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাজধানী। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই ঈদ। শেষ মূহুর্তের কেনাকাটায় চাঁনরাতে রাজধানী আজ নির্ঘুম সময় পার করছে। এখন রাত ১টার বেশি বাজলেও রাজধানীর মার্কেটগুলো দেখে মনে হচ্ছে বিকিকিনি এই তো সবে শুরু। ক্রেতার পদচারণায় মুখরিত মার্কেটগুলো।
অন্যান্য দিনের কোনাকাটা থেকে চাঁনরাতের কেনাকাটা অনেকটাই ভিন্ন। কারণ স্বাভাবিকভাবেই সবাই এই রাতের আগেই ঈদ মার্কেট করে ফেলে। তারপরেও অনেকে মার্কেটে এসেছেন আবার নতুন করে কিছু কেনার জন্য, অনেকে আবার সারারাত মার্কেটে ঘুরবেন। এ যেন এক উৎসবের নগরী।
চাঁদরাত ঘিরে ঢাকার শপিংমল, মার্কেট, ফুটপাত থেকে অলিগলি—সবখানেই বইছে মানুষের ঢল। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় নগরবাসীর ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো শহর।
আজ সন্ধ্যা নামতেই রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, বেইলি রোড, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ছোট-বড় সব দোকানই খোলা, অনেক জায়গায় মধ্যরাত পেরিয়ে ভোর পর্যন্ত কেনাবেচা চলার প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতেও একই চিত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটায় বের হয়েছেন নগরবাসী। কেউ কিনছেন শেষ মুহূর্তের পোশাক, কেউবা জুতা, প্রসাধনী বা শিশুদের খেলনা। অনেকেই আবার ঈদের নামাজের জন্য টুপি, আতর কিংবা জায়নামাজ কিনতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে।
গাউছিয়া মার্কেটে কথা হয় ক্রেতা নাজমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও মেয়ের একটা ড্রেস বাকি ছিল। তাই চাঁদরাতে এসেছি। ভিড় একটু বেশি, কিন্তু এটাই তো ঈদের আমেজ।”
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে দেখা হল সেজুতি রহমানের সাথে। তিনি বলেন, চাঁনরাতে কেনাকাটার মধ্যে ঈদের অন্যরকম আমেজ। অন্যান্য দিনই ঈদের কেনাকাটা করেছি। তবে আজকে কোন চাপ ছাড়াই কেনাকাটা করতে পারছি। কেনাকাটার পাশাপাশি ঘুরছি ,ফিরছি। বান্ধবীরাও এসেছে। ওদের নিয়ে মজা করছি।
ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ছিল সমান ভিড়। তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়ায় অনেকেই ফুটপাতের দোকানেই ভিড় করছেন। এক বিক্রেতা বলেন, “চাঁদরাতই আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসার সময়। সারাদিনের চেয়ে রাতেই বিক্রি বেশি হচ্ছে।”
শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। নতুন জামা পরে কেউ কেউ ঘুরতে বেরিয়েছে, কেউ আবার পরিবারের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত। চারদিকে উৎসবের আনন্দ আর উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে ভিড়ের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তিও। অনেক এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে। বিশেষ করে শপিংমল ও বড় মার্কেটের আশপাশে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদরাতের বিক্রিই অনেক ক্ষেত্রে পুরো মৌসুমের ঘাটতি পূরণ করে দেয়। তাই রাতভর কেনাবেচা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি তাদের।
এক পোশাক বিক্রেতা জানান, “শেষ মুহূর্তে অনেকেই কেনাকাটা করেন। তাই আজকের বিক্রির ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করে।”
সব মিলিয়ে, চাঁদরাতে রাজধানীর চিত্র এক উৎসবমুখর নগরীর। কেনাকাটা, ভিড়, আলো আর মানুষের উচ্ছ্বাসে ঢাকা যেন হয়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। ক্লান্তি আর ভোগান্তির মাঝেও মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে ঈদের আনন্দের হাসি—যা শহরজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে এক অনন্য আবহ।
----------
