একাত্তরে গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:১৪ পিএম, ২২ মার্চ ২০২৬ রবিবার
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। ফাইল ছবি
মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
প্রস্তাবটিতে ১৯৭১ সালের সংঘাতের সময় সংঘটিত নৃশংসতা, বিশেষ করে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’, ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মতো ইসলামপন্থি গোষ্ঠীসহ স্থানীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক স্বীকৃতির দাবি
এই পদক্ষেপের সূচনা করে কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ঘটনাপ্রবাহ একটি ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদী অভিযানের’ সূচনা ছিল, যা জাতিসংঘের গণহত্যার সংজ্ঞার সঙ্গে মিলে যায়।
গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ‘দীর্ঘদিন ধরে পাওনা’ ছিল। তিনি ওই সহিংসতায় বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রস্তাবটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই নৃশংসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করার এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ধর্মের বাঙালিরা লক্ষ্যবস্তু হলেও হিন্দুদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগিরা আলাদাভাবে চড়াও হয়েছিল।
ঐতিহাসিক নথিপত্র
প্রস্তাবটি বেশ কিছু বহুল আলোচিত উৎসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন কূটনীতিক আর্চার ব্লাডের পাঠানো ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’, যেখানে তিনি মার্কিন নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া রয়েছে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন এবং এডওয়ার্ড এম কেনেডির নেতৃত্বে তৈরি মার্কিন সিনেট রিপোর্ট। এই বিবরণগুলোতে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ এবং বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
এই প্রস্তাবের মূল চাওয়াগুলো হলো–১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো, বাঙালি হিন্দুদের লক্ষ্যবস্তু করে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করা, কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর সমষ্টিগত দোষারোপ প্রত্যাখ্যান করা এবং এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ব্যাপক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ১৯৭১ সালের ঘটনাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন, এই স্বীকৃতি নৈতিক ও নীতিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধে এবং অরক্ষিত সম্প্রদায়গুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে সহায়তা করবে।
যদি এই প্রস্তাবটি পাস হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম রক্তাক্ত অধ্যায় নিয়ে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দাবির সঙ্গে মার্কিন নীতির একাত্মতা প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি হবে একটি বড় পদক্ষেপ।
