ইরানসহ চার দেশের সঙ্গে ইইউর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:২৮ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২৬ সোমবার
ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস।
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-এর সঙ্গে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইইউর এক কর্মকর্তা। এতে হরমুজ প্রণালিতে উদ্ভূত উত্তেজনা এবং তা নিরসনের সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
শুধু ইরান নয়, ক্যালাস একই সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, কাতার এবং দক্ষিণ কোরিয়া। ইইউ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যোগাযোগগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে—সংকট নিরসনে একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা।
ফোনালাপে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনা এবং বন্ধ হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত বুধবারও আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ক্যালাস।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে, ইইউ শুরু থেকেই এ সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে ইইউর ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার নতুন যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং কূটনৈতিক সংলাপ জোরদার করাই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ। এ কারণেই ইইউ একাধিক দেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট এখন একটি আন্তর্জাতিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইইউর সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা ভবিষ্যতে উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
