ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ৩:৫৫:৩১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫০ এএম, ২৬ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

আজ ২৬ মার্চ—বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় দিন, মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শুরু হয়েছিল বাঙালির চূড়ান্ত মুক্তির সংগ্রাম, যার মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার এই দিনটি আসে এক রক্তাক্ত ইতিহাসের পথ ধরে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল কাল রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চালায় নৃশংস সামরিক অভিযান—অপারেশন সার্চলাইট। সেই রাতেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালানো হয় গণহত্যা।

এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার সেই আহ্বান ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে, শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ।

পরবর্তী নয় মাস ধরে চলে মুক্তিযুদ্ধ—বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধে অংশ নেয় সর্বস্তরের মানুষ—ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, নারী-পুরুষ সবাই। জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়াই করেন মুক্তিযোদ্ধারা। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়, জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি।

এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের এবং শ্রদ্ধা জানায় সেই সব বীর সন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।

আজ প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের লগ্নে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা জানাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিদেশি কূটনীতি­ রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা।

আজ সরকারি ছুটি। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে। মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। দিবসটি উপলক্ষে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে।

মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু আনন্দের নয়—এটি আত্মত্যাগ, বীরত্ব আর দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার অঙ্গীকারও আজকের দিনের অন্যতম তাৎপর্য।