দৌলতদিয়ায় নিয়ন্ত্রণহীন বাস নদীতে, নারী ও শিশুসহ ১৫ লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০০ এএম, ২৬ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
অর্ধ শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাসটি উদ্ধার এবং তা থেকে নারী ও শিশুসহ ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরো বেশ কিছু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ৬-৭ জন বাস থেকে বেরিয়ে ভেসে ওঠেন। বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও মানিকগঞ্জের ডুবুরি দলসহ অন্যরা যোগ দেয় উদ্ধারকাজে। ঢাকা থেকে রওনা হয় ডুবুরি দল। সময় যত যায় নদীপাড়ে বাড়ে স্বজনদের আহাজারি। রাত ৮টার দিক থেকে প্রচ- ঝড় বৃষ্টির ফলে উদ্ধার অভিযানে বিঘœ ঘটে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পানির নিচ থেকে বাস উদ্ধারের পর খোল থেকে বেরিয়ে আসে আরো লাশ। রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বুধবার বিকেল ৫টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাসে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। কয়েকজন যাত্রী সাঁতার কেটে নদীপাড়ে উঠলেও বেশির ভাগ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি।
ফেরি ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ সম্রাট বলেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠতে গেলে হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ৫-৬ জন যাত্রী সাতরিয়ে নদীর কুলে আসলেও অন্যান্যদের পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর রশীদ, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী আইন উদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ২.১০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ছাড়ে। বাসে আমি, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে বাসে ঢাকার সাভার যাচ্ছিলাম। সবাই বেঁচে গেলেও মেয়ে বাসের মধ্যে রয়েছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও মানিকগঞ্জের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
গোয়ালন্দ হাসপাতালের আরএমও শরীফুল ইসলাম রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, রুপচাঁদ, মর্জিনা ও রেহেনা নামে ৩ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে মর্জিনা ও রেহেনা নামে ২ নারী নিহত হয়েছেন।
রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দুইজনের লাশ পেয়েছি।
গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটের বাস দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তির জন্য জেলা প্রশাসন রাজবাড়ীর কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৭৩৩৩৩৬৪০৯।
