ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ৫:৩৭:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বধ্যভূমি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২৪ এএম, ২৬ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

রংপুর বিভাগজুড়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করা বহু বধ্যভূমি আজ অযত্ন, অবহেলা আর দখল-জটিলতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কোনো নিয়মিত বরাদ্দ না থাকায় এসব গণহত্যার স্থান এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

২০১২ সালের দিকে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় কিছু প্রাথমিক বরাদ্দ এলেও কাজ শুরু হওয়ার পরপরই তা শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কোনো উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ না আসায় থমকে আছে পুরো প্রকল্প।

রংপুর বিভাগ-এর আট জেলায় ছড়িয়ে থাকা এসব বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক স্থানের অস্তিত্বই এখন ঝুঁকির মুখে।

২০১২ সালের জরিপ অনুযায়ী রংপুর বিভাগে মোট ১০৮টি বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে সরকার ৫০টি স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিছু ক্ষেত্রে জমি চিহ্নিত করে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে হস্তান্তরও করা হয়। তবে বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় জমির মালিকানা জটিলতা।

অনেক বধ্যভূমি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত হওয়ায় সেগুলো অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেখানে স্থানীয়ভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও দখল হয়ে যাওয়ায় ঐতিহাসিক স্থানগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

গণপূর্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের পর থেকে আর কোনো নতুন বরাদ্দ না আসায় সংরক্ষণ কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। সীমিত কিছু উদ্যোগে রংপুরের কয়েকটি স্থানে আংশিক সংস্কার করা হলেও অধিকাংশ স্থান এখনো অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরসহ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব বধ্যভূমি আজ সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে।

জরিপ অনুযায়ী—

রংপুরে ৩৯টি
কুড়িগ্রামে ৭৬টি
ঠাকুরগাঁওয়ে ৬৮টি
গাইবান্ধায় ৫৫টি
নীলফামারীতে ৫৪টি
লালমনিরহাটে ৪২টি
দিনাজপুরে ৪০টি
পঞ্চগড়ে ২১টি বধ্যভূমি রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দ না থাকায় সংরক্ষণ কাজ এগোয়নি। পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী এসব স্থান হারিয়ে গেলে ইতিহাসের এক নির্মম অধ্যায়ও ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাবে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।