ঢাকা, শুক্রবার ২৭, মার্চ ২০২৬ ২০:৫৩:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বসন্তে রঙিন বাংলার প্রকৃতি—ফুলের মেলায় সাজে দেশ

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৩৫ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

শীতের কুয়াশা সরে গিয়ে যখন হালকা উষ্ণ রোদ মাটিকে ছুঁয়ে দেয়, তখনই নিঃশব্দে এসে হাজির হয় বসন্ত। ঋতুরাজ এই বসন্ত শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এটি বাংলার প্রকৃতিতে রঙের এক অপূর্ব বিস্ফোরণ। মাঠে-ঘাটে, বনে-বাদাড়ে, পথের ধারে—সবখানেই ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল, যা প্রকৃতিকে করে তোলে জীবন্ত, উচ্ছ্বসিত ও উৎসবমুখর।

সবচেয়ে আগে চোখে পড়ে শিমুল ও পলাশের আগুনরঙা সৌন্দর্য। গ্রামের পথ কিংবা শহরের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা শিমুল গাছ যেন লাল ফুলে জ্বলে ওঠা একেকটি অগ্নিশিখা। পাতা ঝরে গিয়ে খালি ডালে যখন শুধুই ফুল, তখন সেই দৃশ্য হয়ে ওঠে এক অনন্য শিল্পকর্ম। পলাশও কম যায় না—তার কমলা-লাল ফুলে বসন্ত যেন আগুনে রঙ ছড়িয়ে দেয় প্রকৃতির ক্যানভাসে।

কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার সৌন্দর্য বসন্তকে আরও বর্ণিল করে তোলে। যদিও গ্রীষ্মের শুরুতে এদের পূর্ণ বিকাশ, তবুও বসন্তের শেষভাগে কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটার প্রস্তুতিতে প্রকৃতিকে দেয় নতুন বার্তা। রাধাচূড়ার হলুদ আর কৃষ্ণচূড়ার লাল—এই দুই রঙের মেলবন্ধন যেন উৎসবের সাজ।

বসন্ত মানেই কোকিলের ডাক, আর তার সঙ্গে মানানসই ফুল বকুল। ছোট ছোট সাদা বকুল ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে নিঃশব্দে। সন্ধ্যার পর সেই গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যা মনে আনে এক ধরনের নস্টালজিয়া। একইভাবে, নাগেশ্বর, গন্ধরাজ ও বেলি ফুলও বসন্তের ঘ্রাণে যোগ করে অনন্য মাত্রা।

গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সরিষা ফুলের হলুদ ঢেউ বসন্তের অন্যতম আকর্ষণ। মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল যেন সোনালি কার্পেট বিছিয়ে দেয়। এই দৃশ্য শুধু চোখের শান্তি নয়, কৃষকের মুখেও ফোটায় হাসি।

এছাড়া, জারুল, কাঞ্চন, করবী, ডালিম ফুলও বসন্তে প্রকৃতিকে সাজায় নিজস্ব রঙে। কাঞ্চনের হালকা গোলাপি বা সাদা ফুল, করবীর স্নিগ্ধতা কিংবা ডালিমের লাল টুকটুকে ফুল—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন রঙের এক বিশাল ক্যানভাস।

শহরের পার্ক, বাগান ও রাস্তার ধারে ফুটে ওঠা গাঁদা, গোলাপ, ডালিয়া ও পিটুনিয়া ফুলও বসন্তের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যদিও এগুলো অনেকটাই মানুষের হাতে লাগানো, তবুও বসন্তে এদের সৌন্দর্য প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

বসন্তের এই ফুলগুলো শুধু প্রকৃতিকে সুন্দর করে না, মানুষের মনেও জাগায় নতুন আশা ও প্রাণশক্তি। কবি-সাহিত্যিকদের লেখায়, শিল্পীর ক্যানভাসে, কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকার অনুভূতিতে—সবখানেই বসন্তের ফুল এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, বসন্ত এলে বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন করে জীবন পায়। রঙ, ঘ্রাণ আর সৌন্দর্যের এই মিলনমেলায় প্রতিটি ফুলই যেন বলে—এটাই জীবনের পুনর্জাগরণ, এটাই বসন্তের সত্যিকারের পরিচয়।