ঢাকা, শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৬:৫৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ডিমের বাজারে অস্থিরতা: পাইকারদের অভিযোগ

জোসেফ সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৮ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিমের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দফায় দফায় দাম বাড়ার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও পাইকারি পর্যায়ে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুরের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের ওপর নির্ভর করে প্রতি ডজন ডিম ১১০ থেকে ১২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যাচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, “ফার্ম থেকে আমরা আগের মতো নিয়মিত ডিম পাচ্ছি না। সরবরাহ কম থাকলে তো দাম বাড়বেই। আমাদের কিছু করার থাকে না।”
আরেকজন পাইকার জানান, “ফিডের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচও বেশি। এগুলোর প্রভাব সরাসরি ডিমের দামে পড়ে।”

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে মুরগির খাবারের (ফিড) দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ছোট খামারি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন, যার প্রভাব বাজারে পড়ছে।

এদিকে, আমদানি-রফতানির বিষয়টিও বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিম আমদানির অনুমতি সীমিত থাকায় স্থানীয় উৎপাদনের ওপর চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে, কিছু সময় সীমিত পরিসরে ডিম রফতানির আলোচনা বা উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি করে, যা দামের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে।

যাত্রাবাড়ীর এক পাইকার বলেন, “যখনই শোনা যায় ডিম বাইরে যাবে বা আমদানি কম হবে, তখনই বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। সবাই মজুত করতে চায়, ফলে দাম বাড়ে।”

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজার তদারকি যথেষ্ট না থাকায় খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। একই এলাকায় দোকানভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকার পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত পরিসরে আমদানির সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে, যাতে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা গেলে ডিমের বাজারে অস্থিরতা অনেকটাই কমে আসবে।