বিশ্ববাজারের প্রভাব, দোলাচলে সোনার দাম
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪৭ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৬ রবিবার
ফাইল ছবি।
দেশের বাজারে সোনার দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিন বাড়ছে, আবার কয়েকদিনের ব্যবধানে কমছে—এমন অস্থিরতায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের প্রভাব, ডলারের দাম, আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা—সব মিলিয়েই এই দোলাচল তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও ঘন ঘন সমন্বয় করতে হচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার দাম বাড়ানো-কমানোর ঘটনা ঘটছে।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, প্রভাব দেশেও
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বড় অর্থনীতিগুলোর সুদের হার নীতি এবং ডলারের ওঠানামা—এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
এক অর্থনীতিবিদ বলেন, “যখন বিশ্বে অস্থিরতা বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকে। এতে দাম বাড়ে। আবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দাম কমে। এই ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের বাজারেও।”
ডলারের দামে বাড়ছে আমদানি ব্যয়
বাংলাদেশে সোনা আমদানিনির্ভর হওয়ায় ডলারের বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে।
এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান, “আমাদের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আনতে হয়। ডলারের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বাড়ে, তখন বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হয়।”
চাহিদা বাড়লে চাপ পড়ে বাজারে
দেশীয় বাজারে বিয়ে মৌসুম ও উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদাও সোনার দামে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঈদ ও বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারের চাহিদা বেড়ে যায়, যা বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
বসুন্ধরা এলাকার এক জুয়েলারি দোকান মালিক বলেন, “চাহিদা যখন বেশি থাকে, তখন সরবরাহ ঠিক রাখতে হিমশিম খেতে হয়। এতে দাম কিছুটা বাড়ে।”
মজুদ ও বাজার ব্যবস্থাপনাও ফ্যাক্টর
কখনো কখনো ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ দামের আশঙ্কা থেকে সোনা মজুদের প্রবণতা দেখা যায়। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে দামের ওপর প্রভাব পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, “যদি ধারণা হয় সামনে দাম বাড়বে, তখন অনেকে সোনা ধরে রাখে। এতে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যায়।”
নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব
সরকারের কর, ভ্যাট ও আমদানি নীতিতেও সোনার দামের পরিবর্তন ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিনির্ধারণে সামান্য পরিবর্তনও বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ছে
দামের এই অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই অপেক্ষা করছেন দাম কমার, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন আরও বাড়তে পারে—ফলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তারা।
এক ক্রেতা বলেন, “আজ কিনবো নাকি কাল—এই সিদ্ধান্তই নিতে পারছি না। প্রতিদিনই দাম বদলাচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং আমদানি প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য রাখা জরুরি। একইসঙ্গে ডলারের বাজার স্থিতিশীল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
তারা বলছেন, “সোনার দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কারণ এটি একটি বৈশ্বিক পণ্য। তবে সঠিক নীতিমালা ও নজরদারির মাধ্যমে অস্থিরতা কিছুটা কমানো সম্ভব।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার বাজারে এই দোলাচল কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
