ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:৩১:২২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কর কর্মকর্তা তানজিনা সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:১৩ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৬ রবিবার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের উপ-কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের উপ-কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী

অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের উপ-কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একাধিক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ময়মনসিংহ কর অঞ্চলে কর্মরত তানজিনা সাথীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় তার পাশাপাশি বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিক ও মা রানী বিলকিসকেও আসামি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে একই বিধিমালার আওতায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন মনে করে কর্তৃপক্ষ এই আদেশ জারি করে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সই করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে তানজিনা সাথী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবার নামে প্রায় ৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকার এবং মায়ের নামে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তানজিনা সাথীর নিজের নামেও প্রায় ৫ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে, যার বিপরীতে বৈধ আয়ের প্রমাণ নেই।

সব মিলিয়ে পরিবারটির বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।

এর আগে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তানজিনা সাথীর বিপুল অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য উঠে আসে, যা পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।