ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:১৫:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম, বেশি আক্রান্ত শিশুরা

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:৫৯ পিএম, ১ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে হাম রোগ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এই সংক্রামক রোগের বিস্তার। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকদের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে রোগীর চাপ দ্বিগুণেরও বেশি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বেডেই ভর্তি হাম আক্রান্ত শিশু। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝেতে বা অস্থায়ী বেডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই চিত্র মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এও।

হাসপাতালের এক কোণে বসে সন্তানের সেবা করছিলেন এক মা। কথা বলতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে তার। তিনি বলেন, “প্রথমে জ্বর ছিল, ভেবেছিলাম সর্দি-কাশি। পরে শরীরে লাল ফুসকুড়ি উঠতে শুরু করলে ভয় পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন ডাক্তার বলছেন হাম হয়েছে।”

চিকিৎসকরা জানান, হাম সাধারণত ভাইরাসজনিত একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষণ হিসেবে প্রথমে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং কয়েকদিন পর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া এমনকি মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, “বর্তমানে যে হারে হাম ছড়াচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। আমরা দেখছি, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই টিকা না নেওয়া শিশু। অনেক অভিভাবক টিকার বিষয়ে উদাসীন থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাকালীন সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। সেই প্রভাব এখন সামনে আসছে। ফলে যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা পায়নি, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

সরজমিনে রাজধানীর বাইরে কয়েকটি জেলার তথ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক অভিভাবক জ্বর বা ফুসকুড়িকে সাধারণ অসুখ ভেবে গুরুত্ব দেন না। ফলে দেরিতে হাসপাতালে আসার কারণে রোগ জটিল আকার ধারণ করছে।

একজন স্বাস্থ্য সহকারী বলেন, “আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেক সময় মানুষ ঘরে থাকে না, আবার কেউ কেউ ভয় বা ভুল ধারণার কারণে টিকা দিতে চান না।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ ক্যাম্পেইনের কথাও ভাবা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—শিশুর জ্বর, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে।

সামগ্রিকভাবে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। সময়মতো উদ্যোগই পারে এই সংক্রমণ ঠেকাতে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।