ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:১৫:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সারাদেশে হাম ছড়িয়ে গেছে, উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৭ পিএম, ৩ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বিস্তার লাভ করেছে। ইতোমধ্যে ৫৬টি জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বলছে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হওয়াই এ পরিস্থিতির মূল কারণ।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংস্থাটির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক লিখিত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় শিশুদের মধ্যে একটি বড় ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে। এর ফলেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই অল্পবয়সী শিশু। মোট রোগীর প্রায় ৬৯ শতাংশের বয়স দুই বছরের কম, আর ৩৪ শতাংশই ৯ মাসের নিচে—যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বয়সসীমা হিসেবে বিবেচিত।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দরবান—এই আট জেলায় এখনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

বর্তমানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ দশমিক ৮, যা দেশব্যাপী বিস্তারের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। অথচ ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ হার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং প্রতি ১০ লাখে ১-এর নিচে অবস্থান করছিল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, অসম কভারেজ এবং নির্ধারিত ডোজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় শিশুদের একটি বড় অংশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। সেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী থেকেই এখন সংক্রমণ বিস্তার লাভ করছে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগেও সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু, নজরদারি জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং নতুন এলাকাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। এজন্য টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে জনবল বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।