ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫২:৫৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মহাকাশে ৪০ মিনিট যোগাযোগহীন থাকবে আর্টেমিস

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪২ পিএম, ৬ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

নাসার আর্টেমিস-২ মিশন-এর চারজন নভোচারী চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। 

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ১১টা ৪৭ মিনিট (ব্রিটিশ সময়) তাদের মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’ চাঁদের পেছনের দিকে প্রবেশ করলে পৃথিবীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ—রেডিও ও লেজার সিগন্যাল—সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চাঁদ নিজেই এই সংকেত আটকে দেবে, ফলে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে নভোচারীরা পৃথিবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। 

এই সময়টিকে মহাকাশ গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে চরম একাকিত্বের মধ্যেও নভোচারীদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি যাচাই করা হবে।

এই ব্ল্যাকআউটের (মহাজাগতিক বিচ্ছিন্নতা) সময় পৃথিবী থেকে কোনো বার্তাই তাদের কাছে পৌঁছাবে না এবং তাদের থেকেও কোনো তথ্য পৃথিবীতে আসবে না। মহাকাশে এমন যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা চাঁদের উল্টো পিঠের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘটে, যা সরাসরি সিগন্যালকে বাধা দেয়। 

এই অবস্থায় নভোচারীদের জন্য এটি একদিকে যেমন মানসিক চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তেমনি গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা এই সময়ে চাঁদের ভূতাত্ত্বিক গঠন পর্যবেক্ষণ করবেন, ছবি তুলবেন এবং চাঁদের পরিবেশ বিশ্লেষণ করবেন।

আর্টেমিস-২ মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এই সময়টিকে বিশ্ববাসীর জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

তিনি বলেছেন, এই ৪০ মিনিটের নীরবতার সময় পৃথিবীর মানুষ যেন তাদের জন্য প্রার্থনা করে এবং শুভকামনা পাঠায়। গ্লোভার আশা প্রকাশ করেন, এই অভিজ্ঞতা মহাকাশ অভিযানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এই অভিজ্ঞতা নতুন নয়, এর আগে ১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো-১১ মিশন-এর সময় মাইকেল কলিন্স প্রায় ৪৮ মিনিট ধরে চাঁদের পেছনে একা ছিলেন। 

তিনি তার স্মৃতিচারণে ‘সত্যিকারের একাকিত্ব’ অনুভবের কথা বলেছিলেন, তবে ভয় বা আতঙ্কের পরিবর্তে তিনি শান্তি অনুভব করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা আজও মহাকাশ গবেষণায় একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে আছে।

বর্তমান মিশনে রেইড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট), ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে চাঁদের চারপাশে ঘুরছেন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা এই মিশন ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদের কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

যাত্রার শুরু থেকেই নভোচারীরা হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন, যা তাদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে। তবে চাঁদের পেছনে যাওয়ার মুহূর্তে এই যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। 

এই ৪০ মিনিটে তারা মহাকাশের নিস্তব্ধতায় চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন, ছবি তুলবেন এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ চালাবেন। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের চাঁদ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে।

পৃথিবীতে এই ব্ল্যাকআউট সময়টিকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানীরা এবং প্রকৌশলীরা চরম মনোযোগে থাকবেন। ইংল্যান্ডের গুনহিলি আর্থ স্টেশন-এর অ্যান্টেনা দিয়ে তারা ওরিয়ন ক্যাপসুলের অবস্থান ট্র্যাক করছেন। 

স্টেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ সিগন্যাল হারানোর পর পুনরায় তা ফিরে আসা একটি বড় স্বস্তির বিষয় হবে।

ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়তে হলে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা-এর ‘মুনলাইট’ প্রকল্প চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা করছে, যাতে চাঁদের অন্ধকার পিঠেও ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ সম্ভব হয়।

চাঁদের ছায়া থেকে ওরিয়ন যখন আবার বেরিয়ে আসবে এবং সিগন্যাল পুনরুদ্ধার হবে, তখন পুরো বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। এই মিশন শুধু একটি বৈজ্ঞানিক অভিযান নয়, বরং মানুষের সাহস, ধৈর্য এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। 

ভবিষ্যতে চাঁদ এবং তারও পরে মঙ্গলে মানুষের অভিযানের পথ সুগম করতে এই ধরনের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

তথ্যসূত্র : বিবিসি