ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১৩:৩২:০০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভোট লুট হতে পারে ইভিএমে! বড় আশঙ্কা মমতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪৪ পিএম, ৬ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মুর্শিদাবাদে জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজনে বুথ পাহারা দিতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তার দাবি, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থেকে ভোটবাক্স রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে বুথে পাহারা দিয়ে থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে।

রোববার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ ও শামশেরগঞ্জে দুটি পৃথক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে তিনি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মমতার বক্তব্যে উঠে আসে মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের নির্দিষ্ট প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, অনেক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ। পাশাপাশি তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন সময় এসেছে ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার।

তৃণমূল নেত্রীর ভাষায়, ‘‘এই খেলার নাম ‘দুরন্ত খেলা’’’—যেখানে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে। তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন জায়গায় প্রতিপক্ষের লোকজন সক্রিয় থাকলেও জনগণ তৃণমূলের পাশে রয়েছে এবং ভোটের বাক্সে এর প্রতিফলন ঘটবে।

অন্যদিকে, এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্বাচনে হার বুঝতে পেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তার মতে, ইভিএম নিয়ে অভিযোগ করে জনমনে সন্দেহ তৈরি করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে ইভিএম কারচুপি নিয়ে মমতার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তার আক্রমণ রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতি এখন উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, যা ভোটের দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।