রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের ১০১তম জন্মদিন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৪১ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার
আজ প্রখ্যাত সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও সংগঠক রোকনুজ্জামান খান—সবার প্রিয় ‘দাদাভাই’-এর ১০১তম জন্মদিন।
আজ প্রখ্যাত সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও সংগঠক রোকনুজ্জামান খান—সবার প্রিয় ‘দাদাভাই’-এর ১০১তম জন্মদিন। ১৯২৫ সালের ৯ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলার পাংশায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার নানার বাড়ি ছিল খ্যাতিমান সাহিত্যিক রওশন আলী চৌধুরী ও এয়াকুব আলী চৌধুরী-এর পরিবারে। আর পৈত্রিক নিবাস কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার ভবানীপুর গ্রামে।
শিশুদের জন্য নিবেদিত এক অনন্য জীবনযাত্রার সূচনা হয় ১৯৪৮ সালে, যখন আবুল মনসুর আহমদ সম্পাদিত ‘ইত্তেহাদ’ পত্রিকার শিশু বিভাগ ‘মিতালী মজলিস’-এর দায়িত্ব নেন তিনি। পরবর্তীতে ‘শিশু সওগাত’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫২ সালে দৈনিক ‘মিল্লাত’-এর ‘কিশোর দুনিয়া’ বিভাগ পরিচালনার দায়িত্বও সামলান নিষ্ঠার সঙ্গে।
১৯৫৫ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এ যোগ দিয়ে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের জনপ্রিয় পাতা ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন তিনি। আমৃত্যু এই দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এই আসরই তাকে সারা দেশের শিশু-কিশোরদের হৃদয়ে ‘দাদাভাই’ নামে অমলিন করে তোলে।
ব্যক্তিজীবনেও তিনি ছিলেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ। তার স্ত্রী ছিলেন প্রখ্যাত নারী ব্যক্তিত্ব ও ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম। শ্বশুর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ছিলেন ‘সওগাত’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
সম্পাদনার পাশাপাশি রোকনুজ্জামান খান নিজেও লিখেছেন অসংখ্য ছড়া, কবিতা ও শিশুতোষ রচনা। তার সৃষ্টিতে শিশুদের কল্পনা, নীতিবোধ ও দেশপ্রেমের বীজ বপনের এক আন্তরিক প্রয়াস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘হাট্টিমাটিম টিম’, ‘খোকন খোকন ডাক পাড়ি’, ‘আজব হলেও গুজব নয়’সহ তার রচনাগুলো শিশু সাহিত্যভাণ্ডারে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
তার জনপ্রিয় ছড়ার কয়েকটি পঙ্ক্তি—
“বাক বাক্ কুম পায়রা, মাথায় দিয়ে টায়রা
বউ সাজবে কাল কি, চড়বে সোনার পালকি”—
আজও শিশুদের মুখে মুখে ফেরে।
শুধু লেখালেখি নয়, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে সংগঠক হিসেবেও তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। তার প্রতিষ্ঠিত ‘কচি-কাঁচার মেলা’ জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের জন্য এক অনন্য সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পায়।
সাহিত্য ও সংগঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদকসহ বহু সম্মাননা।
১৯৯৭ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে তার সৃষ্ট ‘দাদাভাই’ আজও বেঁচে আছেন—বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর হাসি, ছড়া আর স্বপ্নের ভেতর।
