ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৩:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

শব্দদূষণে বিপর্যস্ত পাখির জীবন, কমছে প্রজনন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৪২ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

মানুষের তৈরি শব্দদূষণ শুধু নগরজীবনকেই অশান্ত করছে না, গভীর প্রভাব ফেলছে পাখিদের জীবনেও। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে পাখিদের স্বাভাবিক আচরণ, যোগাযোগ ও প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Proceedings of the Royal Society B-এ। এতে ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৬০ প্রজাতির পাখির ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, গাড়ি, বিমান, নির্মাণকাজ ও শহরের কোলাহল পাখিদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। শব্দদূষণের কারণে তাদের যোগাযোগ, খাবার সংগ্রহ, শিকারির হাত থেকে বাঁচা এবং বাসা তৈরির আচরণে পরিবর্তন আসছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এতে প্রজননের সাফল্য কমে যাচ্ছে।

পাখিরা মূলত শব্দনির্ভর প্রাণী। সঙ্গী আকর্ষণ, বিপদের সংকেত দেওয়া কিংবা ছানাদের সঙ্গে যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই তারা শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু পরিবেশে অতিরিক্ত শব্দ থাকলে এই সংকেতগুলো বিকৃত হয়ে যায়। ফলে মিলন আচরণ ব্যাহত হয়, অনেক সময় পুরুষ পাখি নিজেদের গানও বদলে ফেলে। এমনকি মা-বাবা ও ছানার মধ্যেও যোগাযোগে জটিলতা তৈরি হয়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মাটির কাছাকাছি বাসা বানানো পাখিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শহুরে পাখিদের শরীরে উচ্চমাত্রার স্ট্রেস হরমোনও পাওয়া গেছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

শুধু তাই নয়, শব্দদূষণ পাখিদের আচরণে আগ্রাসনও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের ইয়েলো ওয়ার্বলার পাখিদের মধ্যে ‘রোড রেজ’-এর মতো আচরণ লক্ষ্য করেছেন গবেষকরা। বাহ্যিক শব্দ তাদের সতর্কবার্তাকে ঢেকে দেওয়ায় নিজেদের এলাকা রক্ষায় তারা শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।

Anglia Ruskin University এবং Konrad Lorenz Research Center-এর গবেষকরা ফ্লোরিয়ানা ও সান্তা ক্রুজ দ্বীপে ৩৮টি স্থানে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন, সড়কের কাছাকাছি বসবাসকারী পাখিরা তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়।

গবেষক ক্যাগলার আকচাই বলেন, “পাখিরা সাধারণত গানের মাধ্যমে নিজেদের এলাকা রক্ষা করে। কিন্তু যখন সেই সংকেত বাহ্যিক শব্দে ঢাকা পড়ে, তখন তারা শারীরিক আগ্রাসনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।”

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় ইস্যুগুলোর তুলনায় শব্দদূষণের ক্ষতি এখনো অবহেলিত। তবে সময় থাকতে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

শব্দদূষণ কমাতে আধুনিক নির্মাণ উপকরণ ও নকশা ব্যবহার, নগর পরিকল্পনায় শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা।