ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:১৪:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ স্বর্ণকন্যা মাবিয়া সীমান্ত

খেলাধুলা ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৬ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

দেশসেরা ভারোত্তোলক স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।

দেশসেরা ভারোত্তোলক স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে দেশসেরা ভারোত্তোলক স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্তকে। গত বছর সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে নেওয়া সীমান্তর নমুনায় নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণের প্রমাণ মেলে। 

ওই গেমসে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশোন (বিওএ) ভবনে নমুনা জমা দেন সীমান্ত। পরে পরীক্ষায় জানা যায় তার দেহে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার কাজ শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে নেওয়া। 

পরে সাউথ এশিয়া অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই গত বৃহস্পতিবার বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) তাকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাঠায়। গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিওএ’র মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা।

২০১৬ গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জেতার পর দেশের লাল-সবুজ পতাকা গায়ে জড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের সময় স্যালুট জানিয়ে অশ্রƒসিক্ত হয়ে পড়েন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। তার সেই ছবি তখন অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায় দেশের সকল ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়াবিদদের জন্য। তবে তারকা এই নারী ভারোত্তোলক ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখন আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

শাস্তি হলেও এর বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে সীমান্তর। 
এ বিষয়ে বিওএ মহাসচিব বলেন,‘ইতোমধ্যেই একবার আপিল করা হয়েছে। স্বীকার করে নেওয়ায় তাই শাস্তি কম হয়েছে। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মাবিয়া ওষুধ সেবন করেছিলেন। তবে সব ওষুধ প্রেসক্রিপশনে থাকলে খাওয়া যায় না। প্রেসক্রিপশন ‘ওয়াডায়’ পাঠিয়ে অনুমতি নিতে হয়।’

শাস্তি নিয়ে সীমান্ত বলেন, ‘আপনারা যে সংবাদটা দেখেছেন কথা সত্যি। আমাকে গত বৃহস্পতিবারে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে একটা সাসপেনশন লেটার পাঠানো হয়েছে। এন্টিডোপিং রুলস ভায়োলেশনের অভিযোগে দুই বছরের জন্য আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’ 

ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর হয়ে গেছে, তখন আমি আমার পায়ে হাঁটুর ট্রিটমেন্টে ছিলাম। তো ওই ট্রিটমেন্ট চলাকালীন অবস্থায় ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশ নেয় বাংলাদেশ দল। যেটাতে আমরা তো গিয়েছি নভেম্বর মাসে। অক্টোবরের ২৯ তারিখে আমাদের রেন্ডম একটা স্যাম্পল নেওয়া হয়। ওই স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে যখন, তখন আমি হাঁটুর ট্রিটমেন্ট চলা অবস্থায় ছিলাম। আমি যে মেডিসিন খেয়েছিলাম হাঁটু ব্যথার জন্য, সেখানে ডায়াবেটিক্সের একটা ওষুধ ছিল। যেহেতু আমার হাঁটুতে পানি জমে গিয়েছিল, সেই পানি কমানোরও একটা ওষুধ ছিল। ওইগুলোই আমি খেয়েছিলাম। সেগুলো নাকি ওয়েট লিফটিংয়ের জন্য নিষিদ্ধ। এসব বিষয় কিন্তু আমি জানতাম না। তখনই স্যাম্পল নিয়েছিল এবং আমার ওই টেস্টে পজিটিভ আসে। সে জন্যই আমাকে দুই বছর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’ 

নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আপিল করবেন জানিয়ে সীমান্ত বলেন, ‘তবে একটা আপিলের অপশন আছে ১৪ দিনের। আমি আপিল করব, দেখা যাক কি হয়।’

উল্লেখ্য, মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ২০১০ সালে মামার হাত ধরে ভারোত্তোলনে আসেন। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২০১৬ সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সোনা এনে দেন। ২০১৯ সালে নেপালের পোখারায় আবারও স্বর্ণ জিতে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ইসলামিক সলিডারিটি গেমসেও সীমান্ত দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি তুলে ষষ্ঠ হন। ২৬ বছর বয়সী দেশসেরা এই ভারোত্তোলককে এখন নতুন করে ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে।