চৈত্র সংক্রান্তি আজ, চৈত্র মাসের শেষ দিন, বিদায় ১৩৩২
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪০ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার
প্রতীকী ছবি।
চৈত্র মাসের শেষ দিন আজ সোমবার। বাংলা মাসের সবশেষ এই দিনটিকে চৈত্র সংক্রান্তি বলা হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ, নতুন বাংলা বর্ষ-১৪৩৩। আবহমান বাংলার চিরায়িত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই চৈত্র সংক্রান্তি।
বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় উৎসব।
চৈত্র থেকে বর্ষার প্রারম্ভ পর্যন্ত সূর্যের যখন প্রচণ্ড উত্তাপ থাকে তখন সূর্যের তেজ প্রশমন ও বৃষ্টি লাভের আশায় কৃষিজীবী সমাজ বহু অতীতে চৈত্র সংক্রান্তির উদ্ভাবন করেছিল। চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে শুক্রবার সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দেখা দেবে নতুন ভোর।
পুরনো বছরের সব জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে মঙ্গলবার বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সার্বজনীন উৎসবে। এদিন জরাজীর্ণতা, ক্লেশ ও বেদনার সব কিছুকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকারকে সরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার থাকবে গোটা জাতির।
চৈত্র সংক্রান্তি কি:
চৈত্র সংক্রান্তি বাংলা বছরের শেষ দিনের এক বিশেষ মুহূর্ত—পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানোর এক আবেগঘন প্রান্তরেখা। বাংলা পঞ্জিকার চৈত্র মাসের শেষ দিনটি ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ নামে পরিচিত। এর পরদিনই শুরু হয় নতুন বছর, অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ।
ঐতিহ্যগতভাবে, চৈত্র সংক্রান্তি শুধু একটি দিন নয়—এটি এক ধরনের সংস্কৃতি, উৎসব ও শুদ্ধতার প্রতীক। গ্রামবাংলায় এদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা, পুরোনো জিনিস গুছিয়ে ফেলা, ঋণ শোধ করা—এসবকে শুভ মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে নতুন বছরটি সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে।
এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে, যাকে ‘সংক্রান্তির মেলা’ বলা হয়। এসব মেলায় থাকে নানা ধরনের লোকজ পণ্য, মিষ্টি, খেলনা, আর গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়া। কোথাও কোথাও পালিত হয় ‘গাজন’ বা ‘চারক পূজা’, যেখানে ভক্তরা নানা ব্রত ও আচার পালন করেন।
খাবারের দিক থেকেও দিনটি বিশেষ—গ্রামাঞ্চলে পান্তা ভাত, শাক-সবজি, ভর্তা কিংবা পিঠাপুলি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এদিন তেতো বা শাক জাতীয় খাবার খেলে শরীরের জন্য ভালো এবং তা এক ধরনের পরিশুদ্ধতার প্রতীক।
চৈত্র সংক্রান্তি তাই একদিকে যেমন বিদায়ের বেদনা বহন করে, তেমনি অন্যদিকে নতুন শুরুর আশাও জাগায়। এটি আমাদের সংস্কৃতির এমন এক আয়না, যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আনন্দ মিলেমিশে এক অপূর্ব সৌন্দর্য তৈরি করে।
