চারুকলা থেকে বের হলো ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৪৫ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার
‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—প্রতিপাদ্যে বর্ণিল আয়োজনে মানুষের ঢল
রাজধানীতে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ-কে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে রঙ, শিল্প আর প্রাণের মিলনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার পর চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় এই শোভাযাত্রা। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ। শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—যা বর্তমান সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে তুলে ধরেছে।
এবারের শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি প্রতীকই বহন করছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য ও বার্তা।
মোরগ নতুন সূচনা, জাগরণ ও আলোর আগমনের প্রতীক হিসেবে অন্ধকার দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির লোকসংগীতের প্রাণ, যা আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়; পাশাপাশি বাউলশিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গও সামনে আনে। কাঠের হাতি শক্তি, ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক। টেপা আকৃতির ঘোড়া গ্রামবাংলার সরল জীবন আর শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। আর পায়রা তুলে ধরে সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা।
এর পাশাপাশি শোভাযাত্রায় ছিল মাছ, বাঘ, হরিণশাবক, ছাগল, ছাগলছানা, কাকাতুয়া ও ময়ূরের মতো নানা প্রাণীর প্রতিরূপ—যা বাংলার জীববৈচিত্র্য ও লোকজ ঐতিহ্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আসে পহেলা বৈশাখ। এই উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং শিকড়ে ফিরে দেখার এক অনন্য মুহূর্ত। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে—তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামেরও সাক্ষ্য বহন করে।
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসার কোনো সীমা নেই। ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত—প্রতিটি ঋতুই ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। কখনও কালবৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে পড়ে স্বপ্ন, আবার সেই ঝড়ই বুনে দেয় নতুন আশার বীজ। তাই প্রতিকূলতার মধ্যেও বাঙালি নতুন শক্তিতে, নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস খুঁজে পায়।
