সারা দেশে তেল নিয়ে তেরেসমাতি বন্ধ হবে কবে?
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:১০ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার
প্রতীকী ছবি।
জ্বালানিতেল—আধুনিক জীবনের রক্তস্রোত। অথচ সেই তেলই আজ আমাদের জীবনে পরিণত হয়েছে দুশ্চিন্তার আরেক নাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি অভিঘাত এসে পড়েছে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে।
রাজধানী থেকে জেলা শহর—সবখানেই এখন একই চিত্র। পেট্রলপাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন, কোথাও দিনভর অপেক্ষা, কোথাও আবার রাতভর দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পাওয়ার হতাশা। সিএনজি চালক, মোটরসাইকেল আরোহী, গণপরিবহন শ্রমিক—সবাই যেন এক অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটাচ্ছেন।
এই সংকট শুধু জ্বালানি পাওয়ার নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সংকট। অফিসগামী মানুষ সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না, পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ভাড়া। বাজারে পণ্যের দামও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। সব মিলিয়ে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
তবে এই পরিস্থিতিতে সরকারের কিছু উদ্যোগও চোখে পড়ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আমদানি কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ডিপোতে মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে।
সরকারি পর্যায়ে পেট্রলপাম্পগুলোতে তদারকি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারির সুযোগ না থাকে। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক সরবরাহ বা বিক্রয় নিয়ন্ত্রণের কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে সবাই ন্যায্যভাবে জ্বালানি পেতে পারেন।
এছাড়া বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো, সরকারি যানবাহনে জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা এবং প্রয়োজন ছাড়া জ্বালানি ব্যবহার কমানোর আহ্বানও এসেছে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই উদ্যোগগুলো কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে? মাঠপর্যায়ে এখনও যে ভোগান্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা প্রমাণ করে উদ্যোগ ও বাস্তবতার মধ্যে একটি ফাঁক রয়ে গেছে।
প্রশ্ন হলো—এই অবস্থার শেষ কোথায়? আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনে কেন একটি সাধারণ দেশের সাধারণ মানুষকে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হবে?
নিশ্চয়ই বৈশ্বিক বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সংকট মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত মজুত, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার—এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
তেল নিয়ে এই ‘তেরেশমাতি’ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দরকার বাস্তবভিত্তিক নীতি, কার্যকর উদ্যোগ এবং মানুষের কষ্টের প্রতি আন্তরিক সংবেদনশীলতা।
কারণ, জ্বালানি শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তি নয়—এটি মানুষের জীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে। এই তেল যেন আর কষ্টের প্রতীক না হয়ে, স্বস্তির সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।
