ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫২:৫৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বসন্তের ছোঁয়ায় ফুলের রঙ ও ঘ্রাণে ভরে উঠছে প্রকৃতি

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২৩ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরু—বাংলাদেশের প্রকৃতিতে এখন রঙের উৎসব। গরমের আগমনী এই সময়ে মাঠ-ঘাট, পথের ধারে, বাড়ির আঙিনায় আর উদ্যানে নানা রঙের ফুল ফুটে প্রকৃতিকে করে তোলে প্রাণবন্ত। শুধু সৌন্দর্য নয়, এই ফুলগুলো দেশের সংস্কৃতি, আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশও।

এই সময়ের সবচেয়ে চোখে পড়া ফুলের মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া। আগুনরাঙা পাপড়ির এই ফুল গাছে গাছে ছড়িয়ে পড়ে, যেন পুরো শহর-গ্রামকে লাল আভায় ঢেকে দেয়। গ্রীষ্মের তাপের মধ্যেও এর উজ্জ্বল রং মানুষকে দেয় এক অন্যরকম স্বস্তি।

এর পাশাপাশি ফুটতে শুরু করে রাধাচূড়া। হলুদ-কমলা মিশ্রিত রঙের এই ফুল কৃষ্ণচূড়ারই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। রাস্তার ধারে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে এই ফুলের উপস্থিতি পরিবেশকে করে তোলে উজ্জ্বল ও আনন্দময়।

শিউলি যদিও মূলত শরতের ফুল, তবে কিছু এলাকায় বসন্তের শেষভাগেও এর দেখা মেলে। সাদা পাপড়ি আর কমলা ডাঁটার মিষ্টি ঘ্রাণ ভোরের আবহকে করে তোলে স্নিগ্ধ।

এ সময় আরেকটি পরিচিত ফুল হলো জারুল। বেগুনি-লাইলাক রঙের এই ফুল শহরের সড়ক বিভাজক কিংবা পার্কে শোভা বাড়ায়। গরমের মধ্যে এর শীতল রঙ চোখকে দেয় আরাম।

গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় কদম ফুলের আগাম প্রস্তুতি। বর্ষায় এর মূল সৌন্দর্য প্রকাশ পেলেও কিছু গাছে কুঁড়ি ধরা শুরু হয় এ সময় থেকেই।

এছাড়া গন্ধরাজ ফুলও অনেক জায়গায় ফুটতে শুরু করে। এর সাদা পাপড়ি ও তীব্র সুগন্ধ সন্ধ্যার আবহে এনে দেয় এক ধরণের প্রশান্তি।

ফুলের এই ঋতু শুধু সৌন্দর্যের নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। মৌমাছি, প্রজাপতি ও বিভিন্ন পোকামাকড় এই ফুলের মধু সংগ্রহ করে, যা পরাগায়ণে সহায়তা করে এবং কৃষির উৎপাদনেও ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরায়ণ ও পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক দেশীয় ফুলের উপস্থিতি আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে। তাই শহর ও গ্রামে দেশীয় ফুলের গাছ লাগানো এবং সবুজ পরিবেশ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে, ঋতুর এই সন্ধিক্ষণে ফুটে থাকা ফুলগুলো আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্যই শুধু বাড়ায় না, বরং জীবনের একটুখানি প্রশান্তির বার্তাও পৌঁছে দেয়।