তেল সংকটের প্রভাব, সবজি ও ডিমের দামে আগুন
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৪৪ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
বাংলায় একটি অতি পরিচিত প্রবাদ হচ্ছে, ‘দুর্জনের ছলের অভাব হয় না’। এই প্রবাদের মতই এদেশের ব্যবসায়ীদের অবস্থা। জিনিসপত্রে দাম বাড়াতে তাদের বাহানা বা অজুহাতের কোন অভাব নেই।
প্রায় সারা বছরই কোনও না কোনও অজুহাতে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে কিছু যৌক্তিক কারণও থাকে। এবার ব্যবসায়ীদের অজুহাত জ্বালানি তেলের সঙ্কট।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের যে অভাব তার প্রভাব পড়ছে বাজারে। পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয়ে থাকে। আর এই ক্ষেত্রগুলোতে চাহিদা মতো তেল না পাওয়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে এমনটাই বলছেন বিক্রেতারা।
বাজারে এখন প্রায় সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে। একইসঙ্গে ডিম, মাছের বাজারও উর্ধ্বমুখী। বাজারে আলু, পেঁপে ও গাজর ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি ৮০ টাকার ওপরে। এমনকি গ্রীষ্মের সবজি বেগুন, পটোল, ঢেড়সের দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক অন্য বছরের ভরা মৌসুমের দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সবজি কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন নিন্ম মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের ক্রেতারা।
খিলগাঁও বাজারের পাশের এক ভ্যান থেকে সবজি কিনছিলেন একজন ক্রেতা। জানতে চাইলে তিনি ব্যাগ উঁচিয়ে বলেন, দেখুন, আধাকেজি করে পটোল, ঢেড়স ও বরবটি কিনেছি। সবগুলোর দামই ১০০ টাকা কেজি। এই সবজি দিয়ে আমার পরিবারের একদিন কোনভাবে যাবে। তাহলে সবজির পেছনে যদি সপ্তাহে এত খরচ করি, তাহলে মাছ, গোশত খাবো কীভাবে?
তিনি বলেন, এখন গ্রীষ্মকালীন এসব সবজির দাম এত হওয়া কোনোভাবে মানা যায় না। এগুলো অন্যান্য বছর ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকতো। এবার একদম ব্যতিক্রম।
এদিকে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাজারে বেড়ে গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। সবজির উৎপাদন ও পরিবহনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার রয়েছে। আর প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় বাজারে সবজির দাম বাড়তি রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।
খিলগাঁও বাজারের বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, ভোরবেলা কারওয়ান বাজারের যে পরিমাণ সবজির সরবরাহ হয়, তার চেয়ে চাহিদা বেশি। বেশি দামে সবজি কিনে তো আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারি না। আমাদেরও দামের কারণে সব সবজি অল্প অল্প করে কিনতে হচ্ছে। এতে বিক্রি ও লাভ কমেছে।
বাজারে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। শুধু আলুর দাম ২৫ টাকা এবং পেঁপে ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে।
বাজারে নতুন আসা বেগুন মান ও জাতভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। এছাড়া পটোল ও ঢেড়শ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙা, শিম, সজনে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাকরোল, করলা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে অপরিবর্তিত রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৮০ ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম স্বাভাবিক। পাশাপাশি কিছুটা কমতে শুরু করেছে সোনালি মুরগির দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ৪৫০ টাকায় উঠেছিল।
এছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
বাজারে গেলো ঈদে বেড়ে যাওয়া গরুর গোশতের দাম এখনো কমেনি। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা দরে। তবে দরদাম করে অনেক দোকানে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেও কেনা যাচ্ছে।
