ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১২:১৭:০৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

২০২৬ গোল্ডম্যান পুরস্কার: এবারই প্রথম সব বিজয়ী নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০৩ এএম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ বিষয়ক পুরস্কার গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ ২০২৬ সালে পেয়েছেন ছয়জন নারী পরিবেশকর্মী। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ তাৎপর্য হলো, ১৯৮৯ সালে পুরস্কারটি চালুর পর এবারই প্রথম সব বিজয়ী নারী।

১৯৮৯ সালে মার্কিন দম্পতি রিচার্ড গোল্ডম্যান ও রোডা গোল্ডম্যান এই পুরস্কার চালু করেন। প্রতি বছর বিশ্বের ছয়টি প্রধান অঞ্চল থেকে একজন করে পরিবেশকর্মীকে বেছে নেওয়া হয়। চলতি বছর নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, পাপুয়া নিউগিনি, যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার ছয় নারী এই সম্মাননা পেয়েছেন, যা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।

এ বছরের বিজয়ীরা হলেন নাইজেরিয়ার ইরোরো তানশি, দক্ষিণ কোরিয়ার বোরিম কিম, যুক্তরাজ্যের সারা ফিঞ্চ, পাপুয়া নিউগিনির থিওনিলা রোকা ম্যাটবব, যুক্তরাষ্ট্রের আলানাহ আকাক হার্লি এবং কলম্বিয়ার ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশন–এর এই পুরস্কারের প্রত্যেক বিজয়ী পান ২ লাখ মার্কিন ডলার। 

ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেন, “কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রকৃত নেতৃত্ব আমাদের চারপাশেই রয়েছে, আর এই বিজয়ীরা তারই প্রমাণ।”

দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের বিজয়ী ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো কলম্বিয়ায় ‘ফ্র্যাকিং’ বা মাটির নিচ থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়াই করে তা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি মাগদালেনা নদী তীরবর্তী জেলে পরিবার থেকে উঠে এসে বড় বড় তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ২০১৮ সালের একটি বড় তেল দুর্ঘটনার পর তার আন্দোলন তীব্র হয়, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।

এশিয়ার বিজয়ী বোরিম কিম দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণদের নেতৃত্বে একটি ঐতিহাসিক জলবায়ু মামলা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ইউথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন, সরকারের জলবায়ু নীতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এই রায়টি এশিয়ায় প্রথম সফল যুব নেতৃত্বাধীন জলবায়ু মামলা হিসেবে স্বীকৃত।

ইউরোপ অঞ্চলের বিজয়ী সারা ফিঞ্চ যুক্তরাজ্যে তেল উত্তোলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় আদায় করেন, যা ‘ফিঞ্চ রুলিং’ নামে পরিচিত। এতে বলা হয়, নতুন তেল বা খনি প্রকল্প অনুমোদনের আগে তার বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক।

পাপুয়া নিউগিনির থিওনিলা রোকা ম্যাটবব খনি প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে বিশ্বের বড় খনি কোম্পানি রিও টিন্টোকে দায় স্বীকারে বাধ্য করেন। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলানাহ আকাক হার্লি আলাস্কার ব্রিস্টল বে অঞ্চলে একটি বিশাল তামা ও স্বর্ণ খনি প্রকল্প বন্ধ করতে সফল হন, যা বিশ্বের বৃহত্তম বন্য স্যামন মাছের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।

আফ্রিকার বিজয়ী ইরোরো তানশি নাইজেরিয়ায় একটি বিপন্ন প্রজাতির বাদুড় পুনরাবিষ্কার করেন এবং আফি মাউন্টেন ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি এলাকায় তাদের আবাসস্থল রক্ষায় কাজ করছেন। তিনি মানবসৃষ্ট দাবানল থেকে বনাঞ্চল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এই ছয় নারীর কাজ একদিকে যেমন স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন এনেছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু আন্দোলনকেও শক্তিশালী করেছে। তাদের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, দৃঢ়তা, সাহস এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে পরিবেশ রক্ষায় বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। 

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা