গরমে বিপর্যস্ত রাজধানীসহ সারা দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম
অনু সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:০৫ এএম, ২২ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার
তীব্র তাপদাহে গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বিপর্যস্ত রাজধানীসহ সারা দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম
দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে টানা কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় রাস্তাঘাট, কর্মস্থল ও জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, পথচারী ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
দুপুর গড়াতেই রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হচ্ছেন, তাদের মুখে ক্লান্তি আর বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। রাজধানীর এক রিকশাচালক বলেন, “এই গরমে রিকশা চালানো খুব কষ্টের। একটু পরপর থামতে হয়, পানি খেতে হয়। তারপরও মাথা ঝিমঝিম করে।” একইভাবে এক নির্মাণশ্রমিক জানান, “রোদে কাজ করতে গিয়ে শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কাজ না করলে আয় নেই, তাই বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে।”
অফিসগামীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলেন, “সকালে বাসা থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে অফিসে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো পথটাই অসহনীয় লাগে। যানজটে বসে থাকলে মনে হয় গরমে দম বন্ধ হয়ে যাবে।”
এদিকে তীব্র গরমে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন অসুস্থতার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তাপদাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিশেষজ্ঞ জানান, “বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আপাতত বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, তাই তাপমাত্রা দ্রুত কমার সম্ভাবনাও কম।”
তিনি আরও বলেন, “দুপুরের দিকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রোদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাই এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি।”
তাপদাহের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিকরা। একই সঙ্গে দ্রুত বৃষ্টির আশায় দিন গুনছেন সবাই।
