ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৩:০০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

দেশজুড়ে দাবদাহ: এই গরমে বাইক না চালানোই ভালো

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৪৩ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশেষজ্ঞরা অপ্রয়োজনে মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রখর রোদ, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং গরম বাতাসের কারণে বাইক চালকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বাইক চালালে শরীরে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এমনকি হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা পেশাগতভাবে মোটরসাইকেল চালান—যেমন রাইড শেয়ারিং চালক বা ডেলিভারি কর্মীরা—তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। বাইক চালানোর সময় শরীরের বড় অংশই রোদে উন্মুক্ত থাকে, ফলে গরমের প্রভাব আরও তীব্রভাবে পড়ে। এতে মনোযোগ কমে যেতে পারে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অতিরিক্ত গরমে রাস্তার পিচ নরম হয়ে যায়, যা টায়ারের গ্রিপ কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত তাপের কারণে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও থাকে। এসব কারণে বাইক চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইক না চালানোই ভালো। প্রয়োজনে বের হলে হেলমেটের সঙ্গে হালকা ও বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক পরা, পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখা এবং মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রোদ থেকে বাঁচতে সানগ্লাস বা ফেস কভার ব্যবহার করার কথাও বলা হচ্ছে।

এদিকে অনেক বাইকচালক জানিয়েছেন, জীবিকার তাগিদে তাদের গরম উপেক্ষা করেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করছেন, এই তাপদাহে কাজ করা আগের তুলনায় অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

সামগ্রিকভাবে, এই তীব্র গরমে নিজের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বাইক চালনায় সতর্কতা বাড়ানো এবং সম্ভব হলে তা এড়িয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।