ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৮:২০:৪৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

হৃদয়-শামীমের ঝড়ে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৫১ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

ছবি: বিসিবি ফাইল ছবি

ছবি: বিসিবি ফাইল ছবি

ব্যাট হাতে টাইমিং পেতে ভুগছিলেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। বাকি ব্যাটাররা বুঝিয়ে দিলেন উইকেটের আসল চরিত্র। রীতিমত ঝড় তুললেন তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন। বাংলাদেশও নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে এগিয়ে গেল টি-টোয়েন্টি সিরিজে।

চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সোমবার নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের লক্ষ্য ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় টাইগাররা।

পঞ্চম উইকেটে ২১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৯ রানের জুটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন হৃদয় ও শামীম। ৩টি ছক্কা ও ২ চারে ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন হৃদয়। ম্যাচ সেরাও এই ডানহাতি ব্যাটার।

শামীম অপরাজিত থাকেন ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৩ বলে ৩১ রানে।

২৪ বলে দরকার ছিল ৩০ রান। ম‍্যাথু ফিশারের ওভারে ২৫ রান নিয়ে সমীকরণ একদম সহজ করে দেন শামীম।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা আশা জাগানিয়া ছিল না বাংলাদেশের। ষষ্ঠ ওভারে সাইফ যখন ফেরেন দলীয় রান তখন ৪১। সেখানে সাইফের অবদান ১৬ বলে ১৭।

লিটন দাস এসে রানে গতি দেওয়ার চেষ্টা করেন বটে। কিন্তু অপর প্রান্তে তানজিদ যেন ছিলেন এদিন নিজের ছায়া হয়ে। লিটনও ফেরেন ১৫ বলে ২১ রান করে।

একাদশ ওভারের প্রথম বলে তানজিদ যখন ২৫ বলে ২০ রান করে ফেরেন দল তখন দ্রুত রান তোলার চাপে।

সেই চাপ তুড়ি মেরে যেন উড়িয়ে দেন হৃদয় ও ইমন। এসেই দুজন খেলতে থাকেন দারুণ সব শট। ইমন ১৪ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলে আউট হন।

তবে অন্য প্রান্তে হৃদয় ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। ২৬ বলে তুলে নেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের পঞ্চম ফিফটি।

চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ করে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় উইকেটে কাতেনে ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভারের ৮৮ রানের জুটি ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। দুজনই আউট হন ব্যক্তিগত ৫১ রানে।

৪ ওভারে ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার রিশাদ হোসেন। ৩১ রানে ১টি নিয়েছেন আরেক স্পিনার মেহেদি হাসান। অন্যটি তানজিম হাসান সাকিবের।

মূল জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া রিপন মন্ডল ৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। তবে দুর্দান্ত শেষ ওভারে তিন দেন স্রেফ ৬ রান।

পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৬১ রান তোলে কিউইরা। দশ ওভারে তোলে ১০০। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে তাদের রানের গতিতে টান পড়ে। শেষ ৫ ওভারে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১ উইকেটে ৫২ রান তোলে তারা।

দ্বিতীয় ওভারে সরাসরি থ্রোয়ে টিম রবিনসনকে রান আউট করেন তাওহীদ হৃদয়। পাওয়ার প্লেতে আর সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। এরপর তরতরিয়ে রান বাড়িয়েছেন ক্লার্ক ও ক্লেভার।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৫০ বলে ৮৮ রান। ২৮ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করা ক্লেভারকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন রিশাদ। নিজের পরের ওভারে ক্লার্ককেও শিকারে পরিণত করেন এই লেগ স্পিনার। ৩৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করে পয়েন্টে হৃদয়কে সহজ ক্যাচ দেন ক্লার্ক।

এরপর বেভন জ্যাকোবস (২ বলে ১) ও ডিন ফক্সক্রফটকে (৭ বলে ৩) দাঁড়াতে দেননি যথাক্রমে তানজিম ও মেহেদি।   

নেতৃত্বে অভিষেক হওয়া নিক কেলিকে ফিরিয়ে ১৭ বলে ৩২ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি ভাঙেন বোলিংয়ে ফেরা শরিফুল।

জশ ক্লার্কসন ১৪ বলে ২৭ রানে এবং নাথান স্মিথ ৪ বলে ২ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (ক্লার্ক ৫১, রবিনসন ০, ক্লেভার ৫১, কেলি ৩৯, জ‍্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, ক্লার্কসন ২৭*, স্মিথ ২*; শরিফুল ৪-০-৩৬-১, তানজিম ৪-০-৪০-১, রিপন ৪-০-৩৯-০, মেহেদি ৪-০-৩১-১, রিশাদ ৪-০-৩২-২)

বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (সাইফ ১৭, তানজিদ ২০, লিটন ২১, হৃদয় ৫১*, পারভেজ ২৮, শামীম ৩১*; স্মিথ ৩-০-৩৩-১, ফিশার ৪-০-৫৩-০, লিস্টার ৪-০-২৩-০, সোধি ৪-০-৪০-২, ক্লার্কসন ৩-০-২৮-১)

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: তাওহীদ হৃদয়

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে গেল।