ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:১৪:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ধানমন্ডিতে রাস্তা কেটে একাকার, ধুলা ও জ্যামে নাকাল সবাই

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২৭ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

ধানমন্ডিতে রাস্তা কেটে একাকার, ধুলা ও জ্যামে নাকাল সবাই

ধানমন্ডিতে রাস্তা কেটে একাকার, ধুলা ও জ্যামে নাকাল সবাই

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় উন্নয়ন কাজের নামে সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী ও পথচারীরা। দিনের পর দিন রাস্তা কেটে ফেলে রেখে দেওয়ায় একদিকে ধুলার দমবন্ধ পরিস্থিতি, অন্যদিকে তীব্র যানজটে নাকাল হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবন।

ধানমন্ডি ৫, ৬, ১১, ২৭, ১৫ নম্বর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কোথাও ড্রেনেজ লাইনের কাজ, কোথাও গ্যাস বা পানির পাইপ বসানোর জন্য রাস্তা কেটে রাখা হয়েছে। কিন্তু কাজের গতি ধীর হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়া অবস্থাতেই পড়ে আছে সড়কগুলো। এতে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়ে চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, “প্রতিদিন সকালে বের হলেই ধুলায় দম বন্ধ হয়ে আসে। বাসার জানালা খুলে রাখা যায় না। রাস্তা এমন খারাপ যে হেঁটে চলাও কষ্টকর।”

এক পথচারী শিউলি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই কাদা আর পানি মিলে রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। শুকনা সময় ধুলা, আর বৃষ্টিতে কাদা—দুই দিকেই ভোগান্তি।”

রিকশাচালক আবদুল করিম জানান, “গর্তের কারণে রিকশা চালাতে খুব সমস্যা হয়। অনেক সময় উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। যাত্রীরাও উঠতে চায় না।”
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে। খোঁড়া রাস্তায় বৃষ্টি নামলেই পানি জমে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়। এতে গর্তগুলো চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আশপাশের বাসাবাড়িতেও পানি ঢোকার আশঙ্কা দেখা দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিক সংস্থা সমন্বয়হীনভাবে একই সড়ক বারবার কাটছে। কাজ শেষ না করেই নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। কাজ শুরুর আগে কোনোরকম প্রচারণাই চালানো হয় না। আবার কোথাও কোথাও লাগানো হয়নি সর্তকতামূলক ফিতাও। কোন সংস্থা খোঁড়াখুঁড়ি করছে, সেটির কোনো বিজ্ঞপ্তি বা সাইনবোর্ড নেই। সড়ক খুঁড়ে ওঠানো মাটি পড়ে আছে সড়কে। আবার কোনো জায়গায় সড়ক মেরামতের জন্য আনা ইট-পাথর রয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। অব্যবহৃত ও ভাঙা পাইপও পড়ে আছে সড়কে।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “ধানমন্ডি এলাকায় বিভিন্ন ইউটিলিটি সংস্থার সমন্বিত উন্নয়ন কাজ চলছে। কিছুটা ভোগান্তি হলেও কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি রাস্তা মেরামতে কার্যকর নজরদারি দরকার। তা না হলে ধানমন্ডির বাসিন্দাদের জন্য এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।

এলাকাবাসীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা কেটে রাখা হয়েছে। চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে ভোগান্তিতে পড়ছে। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই; চলাচল করাই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সংস্কার কাজের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে আনতে হবে সমন্বয় ও পূর্ব প্রস্তুতি। একই সঙ্গে প্রয়োজন আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও দক্ষ কর্মী।

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এক বর্ষায় যদি কাটাকাটি- খোঁড়াখুড়ি বন্ধ রাখা যায়, তাহলে এই বার্তা স্পষ্ট হতো কেউ চাইলে ফি আর জরিমানা দিয়ে রাস্তা কাটাকাটির যে বিলাসিতা তা এই বাংলাদেশে সম্ভব না। নীতিমালার প্রতিপালন হলে সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে জনগণের যে ভোগান্তি, তা কমত। সড়ক খননে নৈরাজ্য বন্ধে কোনো প্রকল্প পরিচালক বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একটি শহরে আদর্শ খননকাজের মোটামুটি সবকিছুই নীতিমালায় রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এটির দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।