ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫২:৩৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চীনা এআইয়ে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৩৩ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়নকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন কূটনীতিকরা। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘২০২৬ নিউ ইয়ার ডায়ালগ বিটুইন ডিপ্লোম্যাটস অ্যান্ড বিজনেস লিডারস’ শীর্ষক সম্মেলনে এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান চীনের এআই প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল শখের প্রযুক্তি নয়, এটি বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বাণিজ্য, ক্রীড়া, পর্যটন এবং শিক্ষা—সবক্ষেত্রেই এর প্রভাব অনস্বীকার্য। চীন যেহেতু বর্তমানে এআই উদ্ভাবনে বিশ্বের নেতৃত্বে রয়েছে, তাই তাদের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় সুযোগ।"

কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান তার দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে চীনা এআই টুলের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে 'ডিপসিক'-এর মতো চীনা এআই টুল ব্যবহার করি। বিশেষ করে তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।" তিনি মনে করেন, চীনের এই উন্নত প্রযুক্তি বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সালে বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থার (ডাব্লিউআইপিও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট এআই পেটেন্টের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন চীনের দখলে। চীনের এই বিশাল প্রযুক্তিগত ভাণ্ডার থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ তার কৃষি ও শিল্প খাতে আধুনিকায়ন ঘটাতে পারে।

শিল্প বিশ্লেষক মা জিহুয়া মনে করেন, চীনের প্রযুক্তিগুলো সহজে অন্য দেশে প্রয়োগযোগ্য। তিনি বলেন, "উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই প্রযুক্তি গ্রহণ করা ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনার এবং অর্থনৈতিকভাবে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার সেরা মাধ্যম।"

কেবল বাংলাদেশ নয়, মালাউই এবং মাদাগাস্কারের প্রতিনিধিরাও চীনের এআই প্রযুক্তির ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। মালাউই তাদের কৃষিখাতে পোকামাকড় দমন এবং মাদাগাস্কার তাদের গ্রামীণ শিক্ষার প্রসারে চীনা এআই কোম্পানি গুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে।

‘ব্যবহারিক সহযোগিতা গভীরতর করা এবং উন্মুক্তকরণের নতুন সুযোগ তৈরি করা’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত নবম এই সংলাপটি নীতি আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা যদি চীনের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে সঠিক বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারেন, তবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এআই এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র: গ্লোবাল টাইমস