ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৮:২৩:০৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বৃষ্টিভেজা সকালে রাজধানীর বাজারে ক্রেতা কম

জোসেফ সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৪৮ এএম, ১ মে ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে আজ শুক্রবার ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বৃষ্টির কারণে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হননি। ফলে অন্যদিনের তুলনায় বাজারে ভিড় কম দেখা গেছে।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, দুপুরের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্রেতা বাড়তে পারে। বাজারে ক্রেতা কম হলেও, স্থিতিশীল রয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজি সরবরাহ কিছুটা কমলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি বাজারে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মিরপুর ও শান্তিনগর এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে কিছু সবজির সরবরাহ খানিকটা কমলেও নিত্যপণ্যের দামে বড় ধরনের ওঠানামা হয়নি। অধিকাংশ পণ্যের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

বাজারে আজ প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।

সবজির মধ্যে বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে কিছু বাজারে পেঁপে ও লাউয়ের সরবরাহ কম থাকায় এসবের দাম সামান্য বেড়েছে।

মাছের বাজারেও ক্রেতা কম ছিল। রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৮০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

মুরগির বাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৬৫ থেকে ৭২ টাকা এবং ভালো মানের মিনিকেট ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “সকালের বৃষ্টিতে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে এখনো সরবরাহে বড় সংকট নেই। যদি টানা কয়েকদিন বৃষ্টি থাকে, তখন দামে প্রভাব পড়তে পারে।”

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের এক ক্রেতা বলেন, “আজ বাজারে লোকজন কম। তাই কেনাকাটা করতে সুবিধা হয়েছে। বেশিরভাগ জিনিসের দাম আগের মতোই আছে, তবে কাঁচামরিচ আর কিছু সবজির দাম একটু বেশি মনে হয়েছে।”

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিনের বৃষ্টিতে বাজারে বড় প্রভাব পড়ে না। তবে টানা কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সবজি ও মাছের দামে চাপ তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়েই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তবে আপাতত রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।