ঢাকা, বুধবার ২২, জুলাই ২০২৬ ০:৩১:৪৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আজ মা দিবস : মায়ের জন্য ভালোবাসা

প্রকাশিত : ০৬:২৮ এএম, ১০ মে ২০১৫ রবিবার | আপডেট: ০৩:৩৭ পিএম, ১০ মে ২০১৫ রবিবার

image_685_154704পঞ্চম খান, সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : 'মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে/মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে/...সেই যে আমার মা/বিশ্বভুবন মাঝে যে তার নেইকো তুলনা/...প্রদীপ হয়ে মোর শিয়রে কে জেগে রয় দুঃখের রাতে/সেই যে আমার মা.../বিশ্বভুবন মাঝে যে তার নেইকো তুলনা...'_ 'মা' সে তো অনন্ত বিশ্বস্ততার জায়গা। মার কোনো তুলনা হয় না। মার তুলনা 'মা' নিজে। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ 'মা'। সবচেয়ে ভালোবাসা ও বড় আশ্রয়ের জায়গা 'মা'। তার স্নেহধারায় স্নাত হয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যান সন্তান। মায়ের আশীর্বাদই সন্তানকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করে। মা শাশ্বত, চিরন্তন। মায়ের প্রতি সম্মান দেখাতেই আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে 'মা দিবস'। বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বাঙালি সন্তানদের হৃদয়ে দিবসটি আজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। হাজার কষ্ট করে তিলে তিলে যে সন্তানটিকে বড় করেছেন একজন মা তাকে ঘিরেই আজ চলবে ব্যতিক্রমী উৎসব উদযাপন। আজকের দিনে একটি ফুল অথবা একটি কার্ড নিয়ে শুভেচ্ছা জানালে মা যেন তাতেই খুশি। মায়ের চাহিদা তো এতটুকুই! সভ্যতার প্রথম পর্যায় থেকেই 'মা'কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আঙ্গিকে নানা উৎসবমুখর অনুষ্ঠান উদযাপন হয়ে আসছে। মা দিবসের আদি উৎপত্তি প্রাচীন গ্রিসে। আদি পর্বে গ্রিক সভ্যতায় ধর্মীয় উৎসব হিসেবে প্রতি বসন্তে 'মাদার অব গড' রিয়ার উদ্দেশে বিশেষ একটি দিন উদযাপন করা হতো। তবে ধর্মীয় উৎসব থেকে বেরিয়ে এসে মা দিবস সামাজিক উৎসবে পরিণত হয় ১৬শ' শতাব্দীতে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে মায়েদের প্রতি সম্মান জানিয়ে 'মাদারিং সানডে' নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হতো। প্রথম দিকে দিবসটি শুধু শহুরে বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরে সাধারণ মানুষ বিশেষত কাজের সন্ধানে শহরে ছুটে আসা মানুষের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠে মা দিবস। ফলে এ বিশেষ দিবসের আবেদন ছড়িয়ে পড়ে শহর ছেড়ে গ্রাম থেকে গ্রামান্তে। পরবর্তী সময়ে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মা দিবসকে আরও সার্বজনীন করে তোলেন আমেরিকার নাগরিক জুলিয়া ওয়ার্ড। দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৮৭২ সাল থেকে তিনি ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেন। তবে দিবসটিকে জাতীয় উৎসবে পরিণত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ফিলাডেলফিয়ার অপর নারী অ্যানা জার্ভিস। ১৯০৭ সালে মা দিবসকে স্বীকৃতি দিতে ব্যাপক প্রচারণা চালান তিনি। সে বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ছিল অ্যানার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। অ্যানা সেই দিবসটিতেই 'মা দিবস' পালন করেন। পরের বছর পুরো ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যেই বিশাল আয়োজনে পালিত হয় 'মা দিবস'। অ্যানা ও তার সমর্থকরা 'জাতীয় মা দিবস' ঘোষণা করার জন্য দেশের মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের চিঠি লিখতে শুরু করেন। অবশেষে ১৯১১ সালে অ্যানা জার্ভিস সফলতা লাভ করেন। সে বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আমেরিকাজুড়ে একই সঙ্গে পালিত হয় 'মা দিবস'। পরে ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের দেশে দেশে মা দিবস পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকাকে অনুসরণ করে গত প্রায় দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশেও প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার নানা আয়োজনে মা দিবস পালন করা হয়। পৃথিবীর সব দেশে একই দিনে দিবসটি পালন করা হয় না। বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশে এই বিশেষ দিনে মাকে শুভেচ্ছা জানানো এখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। দিবসটিকে সামনে রেখেই শাড়ি, কার্ড, ফুলসহ বিভিন্ন গিফটের দোকানে ভিড় জমায় সবাই। মাকে এই দিবসে শ্রেষ্ঠ উপহারটি দেওয়া নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। সব বয়সীরাই এই দিনটিতে তার মাকে একটি সুন্দর উপহার কিংবা একটু সঙ্গ দেয়ার জন্য আগে থেকেই নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। মাকে ঘিরে চলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পূর্বপ্রস্তুতি। খাবারের দোকানগুলো এই বিশেষ দিবসে ভরে ওঠে মা ও সন্তানের আগমনে। বেইলি রোডের বাসিন্দা শাহীন মাহমুদ জানান, প্রতি বছরই আমার ছেলেরা আমাকে শুভেচ্ছা জানায়। একই সঙ্গে আমরা ছয় ভাইবোনও আগের দিন রাত ১২টায় শুভেচ্ছা জানাই আমাদের মাকে। মা দিবসে আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা সব ভাই-বোন মায়ের কাছে চলে যাই। মা-ই আমাদের নির্ভরতার একমাত্র স্থান। বিশেষ কোনো দিন নয়, আসলে প্রতিটি দিনই মায়েদের জন্য। ১০.০৫.২০১৫