বায়ুদূষণে আজও বিশ্বতালিকায় শীর্ষে ঢাকা
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:০৬ পিএম, ৩ মে ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
কয়েক দিনের বৃষ্টির পর রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও আজ রোববার আবারও বেড়েছে দূষণের মাত্রা। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে প্রকাশিত আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম সূচকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই স্কোর ছিল ১৫৪। এই মাত্রাকে “সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ শুধু শিশু, বৃদ্ধ বা অসুস্থ ব্যক্তিরাই নয়, সুস্থ মানুষের জন্যও এই বাতাস স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়িতে দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। সেখানে একিউআই স্কোর পৌঁছায় ১৯৩-এ, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থার কাছাকাছি। এছাড়া ধানমন্ডি, গুলশানের বেজ এজওয়াটার এলাকা, দক্ষিণ পল্লবী, উত্তর বাড্ডা, গুলশান লেক পার্ক, বারিধারা লেকসাইড, পেয়ারাবাগ রেললাইন ও গোড়ান এলাকাতেও বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার দূষণের প্রধান কারণ পিএম ২.৫ নামের অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা। এই কণাগুলোর ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারেরও কম হওয়ায় সেগুলো সহজেই মানুষের ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘ সময় এমন বাতাসে থাকলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের জটিলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং আশপাশের ইটভাটার ধোঁয়া মিলেই ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাতাসের গতি কম থাকলেও দূষণের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়।
আইকিউএয়ারের তালিকায় ঢাকার পর রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৪৯। এরপর ভারতের কলকাতা ও দিল্লির স্কোর ছিল ১৩৭। চীনের সাংহাই ছিল পঞ্চম অবস্থানে, যেখানে একিউআই স্কোর ১২২ রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই ৫০-এর নিচে থাকলে বাতাসকে নিরাপদ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সহনীয়, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। সূচক ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ ধরা হয়।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আবারও জোরালো হচ্ছে।
