আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসক মৌমিতার মা জয়ী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:৪৮ পিএম, ৫ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
নিহত চিকিৎসক মৌমিতা দেবনাথ-এর মা রত্না দেবনাথ
পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ডে নিহত চিকিৎসক মৌমিতা দেবনাথ-এর মা রত্না দেবনাথ এবার রাজনীতির ময়দানে জয় পেয়েছেন। বিজেপি-এর প্রার্থী হিসেবে পানিহাটি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
ফলাফল ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রত্না দেবনাথ। চোখের জল ধরে রেখে তিনি বলেন, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়। তার দাবি, এই রায় বাংলার নির্যাতিত নারীদের পক্ষেই গেছে।
রাজনীতিতে আগে কখনও সরাসরি যুক্ত না থাকলেও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার পরই জনজীবনে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেয়েছেন।
ভোট গণনার পুরো সময় তিনি ছিলেন সংযত। প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যেও কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাননি। তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর জানান, এই জয় শুধু তার ব্যক্তিগত নয়; এটি প্রতিবাদী মানুষের জয়।
জয়ের পর রত্না দেবনাথ বলেন, তার লক্ষ্য প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, একজন প্রতিবাদী মা হিসেবেই দেখতে চান।
গত ২৪ এপ্রিল নির্বাচনী প্রচারে পানিহাটিতে এসে নরেন্দ্র মোদী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এবার নির্বাচনী জয়ের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মায়ের রাজনৈতিক যাত্রা নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।
উল্লেখ্য ড. মৌমিতা দেবনাথ ছিলেন কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একজন ৩১ বছর বয়সী পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেনি চিকিৎসক (বক্ষব্যাধি বিভাগ)।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে রাত ডিউটি চলাকালীন তিনি নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। এই ঘটনা ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, নারীদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিবাদের জন্ম দেয়, যা ‘Justice for Dr. Moumita’ নামে পরিচিতি পায়।
কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার তদন্ত ভার কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)-এর হাতে হস্তান্তর করে।
তার মা, রত্না দেবনাথ, ন্যায়বিচারের দাবির লড়াইয়ে শামিল হয়ে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন।
এই ঘটনা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষার এক বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।
