ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:১৬:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মেলানিয়াকে আফগান কিশোরীর আবেগঘন চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২৭ পিএম, ৭ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

কাতারের একটি মার্কিন পরিচালিত শরণার্থীশিবিরে থাকা আফগান কিশোরী জাহরা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন। ১৪ বছর বয়সি এই কিশোরী বলেছেন, তারা শুধু একটি নিরাপদ জীবন, শিক্ষার সুযোগ এবং ভবিষ্যতের জন্য সামান্য আশার সন্ধান করছেন।

জাহরার পরিবার গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে দোহা শহরের বাইরে অবস্থিত ‘আস সাইলিয়াহ’ শিবিরে বসবাস করছে। তার বাবা আফগান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন। আফগান সরকারের পতনের পর তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং পরে কাতারের এই শিবিরে আশ্রয় নেয়।


বর্তমানে শিবিরটিতে প্রায় ১ হাজার ১০০ আফগান আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দোভাষী, বিশেষ অভিযানের সহযোগী বা মার্কিন সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের আশায় তারা বছরের পর বছর অপেক্ষা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে আফগান পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি খবর প্রকাশ হয়েছে, এসব আফগান শরণার্থীকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মধ্য আফ্রিকার কঙ্গোর নামও আলোচনায় এসেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও পুনর্বাসনকর্মীরা এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, সংঘাতপ্রবণ দেশে পাঠানো নিরাপদ সমাধান নয়।

ভিডিও বার্তায় জাহরা বলেন, “আমরা বড় কিছু চাই না। শুধু শান্তিপূর্ণ জীবন, ভালো শিক্ষা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের একটি সুযোগ চাই।” তিনি আরও অনুরোধ জানান, তার এই বার্তা যেন মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে জাহরা জানান, গত চার বছর ধরে তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারেননি। তালেবান সরকারের মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগানিস্তানেই তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে দীর্ঘ শরণার্থীজীবন তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি জানান, মানসিক অবসাদ কাটাতে তাকে ওষুধও নিতে হচ্ছে।

আফগান পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা এক সংগঠনের প্রধান শন ভ্যানডিভার বলেন, এসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন মিত্র। তাদের তৃতীয় দেশে পাঠানো কোনো সমাধান নয়; এটি কার্যত তাদের পরিত্যাগ করার শামিল।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণেও শিবিরে আতঙ্ক বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দে শিশুদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিবিরবাসীরা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এখনো শিবিরে থাকা আফগানদের জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিক পুনর্বাসনের বিকল্প খুঁজছে। যদিও কোন দেশে তাদের নেওয়া হতে পারে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।