ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৮:৩৬:৩৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বই বাঁচাতে নারীদের লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৫৩ পিএম, ৯ মে ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপের ভেতরেও থেমে নেই ইতিহাস বাঁচানোর চেষ্টা। ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাজার ঐতিহাসিক গ্রেট ওমারি মসজিদের প্রাচীন গ্রন্থাগারের দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপি রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন একদল ফিলিস্তিনি নারী।
ধ্বংস হয়ে যাওয়া লাইব্রেরির ভাঙা তাক থেকে সাবধানে বই টেনে বের করেন ৩৫ বছর বয়সী রনীম মুসা। ছোট্ট ব্রাশ দিয়ে ধুলো ঝেড়ে সহকর্মীদের হাতে তুলে দেন, তারা নরম কাপড়ে মুছে বইগুলো জমা করেন লাইব্রেরির এক কোণায়—যাকে তারা বলেন ‘সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা’।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইকে রনীম বলেন, হামলার পর পুরো লাইব্রেরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। বোমার স্প্লিন্টার, পাথরের টুকরো, ধুলা আর ময়লায় ঢেকে গিয়েছিল চারপাশ। শত শত বই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল।
আরবি ভাষায় স্নাতকোত্তর রনীম গাজা সিটির ‘আইজ অন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট’-এর নারী স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে এই উদ্ধারকাজে যুক্ত। বিশেষ কোনো সংরক্ষণ সরঞ্জাম না থাকায় তারা সাধারণ ব্রাশ, শুকনো কাপড় আর বাতাসে শুকিয়ে নেওয়ার মতো সহজ পদ্ধতিতেই বইগুলো রক্ষার চেষ্টা করছেন। এই কাজকে তারা বলছেন ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’।
গাজার সবচেয়ে পুরোনো স্থাপনাগুলোর একটি গ্রেট ওমারি মসজিদের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের। একসময় এটি ছিল মন্দির, পরে গির্জা এবং পরে মসজিদে রূপান্তরিত হয়। এর লাইব্রেরিতে প্রায় ২০ হাজার বইয়ের সংগ্রহ ছিল, যার মধ্যে ১৮৭টি ছিল অতি দুর্লভ পাণ্ডুলিপি। বারবার হামলায় এখন তা প্রায় ধ্বংসস্তূপ।
রনীম বলেন, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, বৃষ্টি আর ছত্রাকের কারণে বইগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোনো পাতা ছিঁড়ে গেলে তার মনে হয় যেন ইতিহাসের একেকটি সাক্ষী হারিয়ে যাচ্ছে।
নিজের বাড়ি হারিয়েও থেমে যাননি তিনি। উত্তর গাজার জাবালিয়ায় তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন তাঁবুতে বসবাস করলেও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগাযোগ করে স্বেচ্ছাসেবকেরা ঠিক করেন, কে কখন লাইব্রেরিতে এসে কাজ করবেন।
আইজ অন হেরিটেজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক হানিন আল-আমাাসি জানান, ২০০৯ সালে শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে গাজার দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ করছে। তার অভিযোগ, হামলায় শুধু ভবন নয়, ফিলিস্তিনের ইতিহাস মুছে ফেলারও চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন মূলত খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষাও জরুরি। কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন জানতে চাইবে—নিজেদের ইতিহাস বাঁচাতে তারা কী করেছিলেন।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও গাজার এই নারীরা বিশ্বাস করেন, বইগুলো টিকিয়ে রাখতে পারলে টিকে থাকবে তাদের জাতির স্মৃতি, পরিচয় আর ইতিহাসও।