ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:১৪:০০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ইলতিজা মুফতির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ, কাশ্মীরে নতুন বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:১০ পিএম, ১১ মে ২০২৬ সোমবার

কাশমিরের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী ইলতিজা মুফতি।

কাশমিরের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী ইলতিজা মুফতি।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী ইলতিজা মুফতির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভারতে স্থগিত করা হয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়েরের কয়েক দিনের মাথায় নেওয়া এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আজ সোমবার (১১ মে) ইলতিজা মুফতির এক্স অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে দেখা যায়, ‘একটি আইনি দাবির প্রেক্ষিতে ভারতে এই অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে’—এমন বার্তা দেখানো হচ্ছে। সাধারণত ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯এ ধারার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির কন্যা ইলতিজা মুফতি বরাবরই বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
অ্যাকাউন্ট স্থগিতের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি এটিকে ‘কণ্ঠরোধের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; উর্দু ভাষার মর্যাদা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার পরপরই তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ, রাজনৈতিক সমালোচনা ঠেকাতেই প্রশাসনিক সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মূলত কাশ্মীরের প্রয়াত হুররিয়ত নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানির একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
ওই ভিডিওতে গিলানি জম্মু ও কাশ্মীরে উর্দু ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ভিডিওটি শেয়ার করে ইলতিজা লিখেছিলেন, গিলানির রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে একমত না হলেও উর্দু ভাষা নিয়ে তার বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এরপর ২৮ এপ্রিল শ্রীনগরের সাইবার পুলিশ স্টেশনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ প্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচারণা এবং ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি কেবল আইনি পদক্ষেপ নয়; এর পেছনে কাশ্মীরের বর্তমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনও কাজ করছে।
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনে কিছু সরকারি পদে উর্দু ভাষাজ্ঞানের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার গুঞ্জন ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর প্রশাসন এ খবর অস্বীকার করেছে।
উর্দু জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম সরকারি ভাষা হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করা হচ্ছে।
ইলতিজা মুফতির এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিতের ঘটনায় কাশ্মীরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল অধিকার এবং রাজনৈতিক বিরোধিতার পরিসর নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি অঞ্চলটির বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।