ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৩:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কোলে শিশুসহ মা কারাগারে, জেলগেটে অপেক্ষায় দুই শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৩৭ পিএম, ১১ মে ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

লক্ষ্মীপুরে এক ফৌজদারি মামলায় মাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় মানবিক এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের জন্ম হয়েছে। মায়ের সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে এক বছরের দুধের শিশুকে, আর জেলগেটের সামনে স্কুলড্রেস পরে দাঁড়িয়ে ছিল তার আরও দুই সন্তান—মায়ের ফেরার অপেক্ষায়।
সোমবার (১১ মে) লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফারহানা আক্তার শিল্পী ও জহির উদ্দিন নামে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, সিআর-৫৬৫ নম্বর মামলায় বিচারক শাহ জামাল এ আদেশ দেন। পরে তাদের আদালতের পুলিশ হাজতে রাখা হয়। এরপর শিল্পীর দুধের শিশুসহ তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর প্রিজনভ্যানে মায়ের কোলে শিশুকে নিয়ে বসে থাকার ছবি এবং জেলগেটের সামনে দুই সন্তানের অপেক্ষার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, এক বছরের শিশু সিয়াম এখন মায়ের সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। অন্যদিকে শিল্পীর আরও দুই সন্তান—পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিপন হোসেন ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার—জেলগেটে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল।
জানা গেছে, দুই শিশুই স্থানীয় শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী এবং তাদের পরীক্ষা চলমান।
আইনজীবীদের দাবি, মামলার অভিযোগ ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম বলেন, মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, শিল্পী লোহার রড দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন। তবে আদালতে জমা দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে আঘাতকে ‘সাধারণ জখম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, এ ধরনের অভিযোগ জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল জানিয়েছেন, শিল্পী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে বর্তমানে কারাগারেই আছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া গত ১৫ এপ্রিল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এতে প্রতিবেশী ফারহানা আক্তার শিল্পীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চললেও মায়ের কারাবরণ এবং ছোট ছোট সন্তানের অসহায় অপেক্ষার এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে নাড়া দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।