ইসরায়েলিদখলদার ও হামাস নেতাদের ওপর ইইউ’র নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:১৩ এএম, ১২ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা চলছিল। তবে এতদিন হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরোধিতার কারণে উদ্যোগটি আটকে ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বুদাপেস্টের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হওয়ায় ইইউর ভেতরের অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। যদিও তাদের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “অচলাবস্থা কাটিয়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের এটাই উপযুক্ত সময়।” তাঁর মতে, পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে চরমপন্থা ও সহিংস বসতি সম্প্রসারণে জড়িত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইইউ একমত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “অত্যন্ত গুরুতর ও অসহনীয় এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
তবে ইসরায়েল এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার অভিযোগ করেন, ইইউ রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে “ভিত্তিহীন” নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না।
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ইইউকে “ইহুদিবিদ্বেষী” বলে আখ্যা দেন এবং এই সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন।
একই বৈঠকে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছেন ইইউ নেতারা। যদিও কোন কোন নেতাকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই যুদ্ধ ও মানবিক সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইইউর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে “রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও বর্ণবাদ” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ইইউ একতরফাভাবে ইসরায়েলের অবস্থানকে সমর্থন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল। একই সঙ্গে এটি পশ্চিম তীরের সহিংসতা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
