স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজন হত্যার পর ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৪ পিএম, ১৫ মে ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তার মরদেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে তদন্তের অংশ হিসেবে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব আলামত যাচাইয়ের পর তার অবস্থান শনাক্তে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই সেতুর ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পাওয়া গেলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। পরে বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন কন্যা—মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২)—এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
ফোরকান পেশায় ছিলেন প্রাইভেটকারচালক। তিনি প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরে পাঁচজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তিন শিশুর মরদেহ মেঝেতে পাশাপাশি এবং শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত ছিল। শ্যালকের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়ের বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। তদন্তে পাওয়া কাগজপত্র থেকে জানা যায়, ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক বিরোধ ও দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং তদন্ত এখনো চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
